বিগত জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়ও মাঠে থাকতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে সংস্থাটি। এ বিষয়ে ছয় দফা প্রস্তাবনা সম্বলিত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে বিএনসিসি।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছুউদ। তবে তিনি জানিয়েছেন, আপাতত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনসিসিকে দায়িত্ব দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।
ইসির কাছে পাঠানো চিঠিতে বিএনসিসি দাবি করেছে, যুবসমাজের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধ তৈরিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এছাড়া জাতীয় উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং গত জাতীয় নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
সংস্থাটির প্রস্তাব অনুযায়ী, ক্যাডেটরা ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা রক্ষা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা, ভোটার হেল্প ডেস্ক পরিচালনা এবং নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভোটারদের সহায়তায় কাজ করতে পারে। এছাড়া ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য সংগ্রহ ও ডিজিটাল এন্ট্রিতেও সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছে তারা।
তবে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছুউদ বলেন, আইনি কাঠামো অনুযায়ী কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করতে পারেন। বিএনসিসি সেই সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না, তাই তাদের নির্বাচনী দায়িত্বে রাখা সম্ভব নয়।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম চলমান থাকলেও এ কাজে বিএনসিসির সহায়তার প্রয়োজনীয়তা দেখছে না কমিশন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রথমে ১৬ হাজার বিএনসিসি সদস্যকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিয়োগের পরিকল্পনা থাকলেও রাজনৈতিক আপত্তির কারণে শেষ পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ৪০০ সদস্যকে পোস্টাল ব্যালটের নিরাপত্তায় সীমিত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে বিএনসিসির সদস্য সংখ্যা প্রায় ২১ হাজার।