বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬–এর সাম্প্রতিক সংশোধনীতে যুক্ত হওয়া ‘জেন্ডার’, ‘জেন্ডার পরিচয়’ ও ‘জেন্ডার অভিব্যক্তি’সহ কয়েকটি পরিভাষা বাতিল বা সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের ৩৩০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাঁদের অভিযোগ, বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫–এ এসব শব্দ কোনো সুস্পষ্ট আইনি সংজ্ঞা ছাড়াই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বিভ্রান্তি ও বিতর্কের সৃষ্টি করতে পারে।
মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ উদ্বেগের কথা তুলে ধরা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, শ্রম আইন মূলত শ্রমিকের অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্য প্রণীত হওয়া উচিত। সেখানে অস্পষ্ট ও বিতর্কিত মতাদর্শভিত্তিক পরিভাষা যুক্ত হলে সামাজিক বিভাজন ও মূল্যবোধগত দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিবৃতিদাতাদের মতে, সংশোধিত আইনে ব্যবহৃত ‘জেন্ডার’, ‘জেন্ডার পরিচয়’, ‘জেন্ডার অভিব্যক্তি’ কিংবা ‘জেন্ডারভিত্তিক আচরণ’—এসব শব্দের কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা না থাকায় ভবিষ্যতে বিভিন্ন ব্যাখ্যা ও প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
তাঁরা আরও বলেন, এ ধরনের আইনি পরিবর্তনের ফলে জন্মগত পুরুষ নিজেকে নারী পরিচয় দিয়ে নারীদের জন্য নির্ধারিত স্থান বা সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারেন। এতে নারীর নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সামাজিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গও উঠে আসে। স্বাক্ষরকারীরা বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বিশ্বাস ও সামাজিক সংস্কৃতিকে উপেক্ষা করে আইন প্রণয়ন করা হলে তা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক অস্থিরতার কারণ হতে পারে। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকেও ‘জেন্ডার অভিব্যক্তি’র নামে নারী-পুরুষের বেশভূষা পরিবর্তনের বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয় বলে তারা মত দেন।
এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তাঁরা শ্রম আইনে ব্যবহৃত ‘লিঙ্গ’ ও ‘জেন্ডার’ শব্দের সুস্পষ্ট ও আইনগত সংজ্ঞা নির্ধারণের দাবি জানান। পাশাপাশি অসংজ্ঞায়িত ও বিতর্কিত পরিভাষাগুলো বাতিল বা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন মুফতি মুহাম্মাদ আবদুল মালেক, শায়খ আহমাদুল্লাহ, ড. মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা।