ইপেপার / প্রিন্ট
চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ বেইজিংয়ের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর আমন্ত্রণে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম চীন সফর, যা কূটনৈতিক দিক থেকে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সফরের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ ও চীন-এর মধ্যে কৌশলগত যোগাযোগ জোরদার করা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ। বুধবার বেইজিংয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আলোচনায় আসবে।
আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, চীনে বাংলাদেশি কাঁঠাল রপ্তানি এবং গুয়াংজু ও সাংহাই থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সরাসরি ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা। এছাড়া চীনা শিল্প স্থানান্তর, চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন এবং চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হবে।
এছাড়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে চীনের সমর্থন আদায়ের বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত মাসে ভারতের সফরের পরপরই এই চীন সফর বাংলাদেশের কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। এতে করে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা প্রতিফলিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, চীনও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী। বিশেষ করে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ এবং গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ-এর আওতায় সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনার মতো বড় প্রকল্পে অংশগ্রহণে গুরুত্ব দিতে পারে বেইজিং।
এ সফরে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর। পাশাপাশি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সম্ভাব্য চীন সফর নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
সব মিলিয়ে, এই সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।