স্বাধীনতার পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও গণহত্যার শিকার ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনো না হওয়াকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান। তিনি জানিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের একটি নির্ভুল, গ্রহণযোগ্য ও সর্বজনগ্রাহ্য তালিকা প্রণয়নে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমীন দুলালের লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মন্ত্রী বলেন, এ উদ্যোগ সফল হলে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও গণহত্যার শিকার সব ব্যক্তির আত্মত্যাগ যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মর্যাদা পাবে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সরকার এ বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে কাজ করছে।
তিনি জানান, বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের গেজেটভুক্ত শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৬ হাজার ৪৮০ জন। এর মধ্যে শহীদ বেসামরিক মুক্তিযোদ্ধা ৩ হাজার ৬৯৮ জন, সশস্ত্র বাহিনীর শহীদ ১ হাজার ৫৪১ জন, শহীদ বিজিবি সদস্য ৮১৭ জন, শহীদ পুলিশ সদস্য ৪২৩ জন এবং শহীদ আনসার বাহিনীর একজন সদস্য রয়েছেন।
এদিকে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ২০১০ সাল থেকে মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সুপারিশে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৭৬ জনের গেজেট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ৪৮১ জনের নাম বাতিল করা হয়েছে।
অন্যদিকে সংসদে কৃষি খাত নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি জানান, সার সরবরাহ ব্যবস্থায় নানা অনিয়মের অভিযোগে ২ হাজার ৩১১ জন ডিলারের তালিকা করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে পর্যায়ক্রমে তাদের ডিলারশিপ বাতিলসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে দেশে বিসিআইসি ও বিএডিসির অধীনে মোট ১১ হাজার ৫ জন সার ডিলার রয়েছেন।
এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম সংসদে জানান, ২০৪০ সালের মধ্যে ৫৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন পর্যটক আকর্ষণ এবং দুই কোটির বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে।