দুর্নীতি মামলার জটিলতা থেকে শিগগির মুক্তি পাচ্ছেন না ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইসাক হেরজগ-এর সাম্প্রতিক বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত মিলেছে।
এক বিবৃতিতে হেরজগ জানিয়েছেন, মামলার বাদী পক্ষের সঙ্গে আপস-মীমাংসার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরেই কেবল নেতানিয়াহুর ক্ষমার আবেদন বিবেচনা করা হবে। তিনি মনে করেন, আদালতের বাইরে সমঝোতার সব পথ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্ষমার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
এই অবস্থান থেকে ধারণা করা হচ্ছে, নেতানিয়াহুর ক্ষমার আবেদন আপাতত স্থগিত থাকছে এবং তাকে আরও দীর্ঘ সময় ধরে আদালতে হাজিরা দিতে হতে পারে।
প্রায় এক দশক আগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ঘুষ, প্রতারণা এবং বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ ওঠে। ২০১৯ সালে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা শুরু হয় এবং বর্তমানে তিনটি পৃথক দুর্নীতি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার শুনানিতে তাকে নিয়মিত আদালতে উপস্থিত থাকতে হচ্ছে।
দুর্নীতি মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে গত নভেম্বরে প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন নেতানিয়াহু। এ বিষয়ে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে হেরজগ স্পষ্টভাবে বলেন, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশিত নয়।
এদিকে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট হেরজগ মামলার বাদী পক্ষের সঙ্গে সম্ভাব্য আপস-মীমাংসার জন্য মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিতে পারেন। সেই প্রেক্ষিতে আপাতত ক্ষমা সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইসরায়েলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা দেশটির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।