সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই আলোচনায় ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-এর কমিটি ভেঙে দেওয়ার সম্ভাবনা। অবশেষে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। নির্বাচনের দেড় মাস পর বিসিবির নির্বাচিত কমিটি বিলুপ্ত করে ১১ সদস্যের একটি এডহক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন তুলে ধরেন। সেখানে তিনি জানান, তামিম ইকবাল-কে সভাপতি করে নতুন এডহক কমিটি গঠন করা হচ্ছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগ উঠে এসেছে
সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ
তদন্ত প্রতিবেদনে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া-র বিরুদ্ধে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি এবং তার এপিএস সাইফুল ইসলাম বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাকে প্রভাবিত করে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন দিতে চাপ প্রয়োগ করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ধরনের কার্যক্রম নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার একটি সুসংগঠিত প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।
ই-ভোটিংয়ে অনিয়ম
নির্বাচনে ব্যবহৃত ই-ভোটিং পদ্ধতি নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়নি এবং তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে।
অনেক কাউন্সিলরকে রাজধানীর একটি হোটেলে একত্রিত করে ই-ভোট দিতে প্রভাবিত করার অভিযোগ রয়েছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ
তদন্ত প্রতিবেদনে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল-এর বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। বলা হয়েছে, তিনি এককভাবে ১০ জন সাবেক ক্রিকেটারকে কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন, যা বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার বাইরে।
এতে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সামনে কী?
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জানিয়েছে, এই এডহক কমিটির মূল দায়িত্ব হবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা এবং পরবর্তীতে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা।
এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা হলো। এখন সবার নজর নতুন কমিটির কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনের দিকে।