ইপেপার / প্রিন্ট
ফিফা বিশ্বকাপের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে ৪৮ দলের মহারণ। বর্তমানে বিশ্বকাপ শুরু হতে আরও ৬৫ দিন বাকি। ফিফা প্রতিদিনের পরিসংখ্যানমূলক প্রতিবেদনের মাধ্যমে বিশ্বকাপের জন্য সন্নিকট সময়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে।
ফুটবল ইতিহাসের এক স্মরণীয় মুহূর্তে বুয়েন্স আয়ার্সের এস্তাদিও মনুমেন্তালে কলম্বিয়া আর্জেন্টিনাকে ৫-০ গোলে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। ফুলটাইম শেষে ৭৫ হাজার দর্শক ও কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনাসহ উপস্থিত সবাই কলম্বিয়ার অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছিলেন।
এই জয়ের পর কলম্বিয়া ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপের টিকিট পেতে আর্জেন্টিনাকে প্লে অফে খেলতে বাধ্য করেছিল। এমনকি নিজেই স্বীকার করেন ম্যারাডোনা, “আমার দেখা অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স এটি।” পেলের ভাষ্যও হয়েছিল, “বিশ্বকাপ জেতার জন্য কলম্বিয়া ফেভারিট।”
তবে ইতিহাসে যেমন চমক ছিল, বাস্তবে কলম্বিয়া প্রথম ধাপ পার করতে পারেনি। রোমানিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে প্রথম পর্বেই বিদায় নিশ্চিত হয় কলম্বিয়া। তবে ক্যালিফোর্নিয়ায় সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় ছিল চোখে পড়ার মতো।
গ্রুপ পর্বে বাদ পড়লেও কলম্বিয়া এমন পরিসংখ্যান গড়ে তুলেছিল, যা অনন্য। তারা গড়ে ৬৫ শতাংশ বল দখলে রেখে খেলেছিল, যা ওই সময়ের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, ইতালি বা সুইডেনের চেয়ে বেশি। এই কৃতিত্বের মূল নায়ক ছিলেন ‘এল পিবে’ খ্যাত কার্লোস ভালদেরামা, কলম্বিয়ার সোনালি চুলের এ মিডফিল্ডার, যিনি সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে খ্যাত।
সেবার বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল ‘কুয়েস্ট্রা’ এবং ভালদেরামার দক্ষ পাসিং অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক তৈরি করেছিল। প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বল রক্ষা ও ফুটবল পরিচালনায় তার কৌশল ছিল অসাধারণ।
২০২৬ বিশ্বকাপে নতুন উত্তেজনা শুরু হলেও, ১৯৯৪ সালের কলম্বিয়ার পারফরম্যান্স আজও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে অনন্যভাবে স্থান করে রেখেছে।