ইপেপার / প্রিন্ট
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। ইরান দাবি করেছে, তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের দায়ে একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, ইসফাহান প্রদেশের আকাশে একটি MQ-1 Predator ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। যদিও কিছু সূত্রে এটি MQ-9 Reaper মডেলের হতে পারে বলেও দাবি করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি সংলগ্ন এলাকায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পর এই ড্রোন ধ্বংসের খবর সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ড্রোন ও সামরিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর অন্তত ১৬০টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। পাশাপাশি বুশেহর ও খোমেইন এলাকায় ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইল ধ্বংসের কথাও জানানো হয়েছে।
এদিকে একই সময়ে তেহরান–এ বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। তাদের দাবি, ইরানের সামরিক অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
আইডিএফ জানায়, এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল করা। অন্যদিকে আইআরজিসি অভিযোগ করেছে, পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন করা মার্কিন ও ইসরায়েলি ড্রোনগুলো নিয়মিতভাবে তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে, যার জবাব হিসেবেই তারা পাল্টা পদক্ষেপ নিচ্ছে।
উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার চরমপত্র দেওয়ার পর থেকেই এই উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়। এর ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
যদিও ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার স্বাধীন কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি, তবুও উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে একটি সম্ভাব্য বড় সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।