ইপেপার / প্রিন্ট
ফেনী ও ঝিনাইদহে দুইটি খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী, যা দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো ও সেচ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনার প্রত্যাশা তৈরি করেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) সচিবালয়ে সারাদেশে খাল খনন ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ ঘোষণা দেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী ড. আইনুন নিশাত, এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বৈঠকে খাল খননের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, এবং নদী ও খাল দখল রোধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের ওপর বিশেষভাবে আলোকপাত করা হয়।
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানান, সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় এই বছরে মোট ১২০০ কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, এবং গ্রামীণ অঞ্চলে কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তিনি আরও জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং ফারাক্কা পানি বণ্টন চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে কারিগরি কমিটি ইতিমধ্যেই কাজ করছে।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, “রাজনৈতিক প্রভাবে কোনোভাবেই নদী ও খাল দখল হতে দেওয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা খাল ও নদীর নিরাপত্তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিশ্চিত করব।”
এই খাল খনন কর্মসূচি দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সেচ সুবিধা বৃদ্ধির ঐতিহাসিক উদ্যোগ। এটি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সূচিত কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বহন করছে। বর্তমানে, সরকার বিএনপির নির্বাচনী ইশতিহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আগামী পাঁচ বছরে দেশের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলাধার খননের ব্যাপক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী গত ১৬ মার্চ দিনাজপুরে এই উদ্যোগের প্রথম খাল খননের কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন। চলতি মাসের ফেনী ও ঝিনাইদহের খাল উদ্বোধন এই উদ্যোগকে নতুন মাত্রা দেবে, যা দেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
এর মাধ্যমে শুধু সেচ ব্যবস্থা নয়, বরং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ, এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালীকরণেও সহায়ক হবে এই প্রকল্প। সরকারের এ পদক্ষেপের লক্ষ্য, বাংলাদেশে নদী ও খাল দখল রোধ করে স্বচ্ছ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।