ইপেপার / প্রিন্ট
চাঁদাবাজি, মাদক, দুর্নীতি ও অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণার মাধ্যমে ঢাকা-৮ আসনকে নিরাপদ, মানবিক ও বসবাসযোগ্য এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এক অনুষ্ঠানে নিজের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার ঘোষিত ৮ দফা ইশতেহারে উল্লেখ করেন—
শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার, চাঁদাবাজি-মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত নিরাপদ ঢাকা-৮, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, বৈষম্যহীন ও মানসম্মত শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও দক্ষ জনশক্তি বৃদ্ধি, নাগরিকবান্ধব ও জনদুর্ভোগমুক্ত এলাকা, আগামী প্রজন্মের জন্য টেকসই ঢাকা-৮ এবং ‘জনতার এমপি, জনতার সেবক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন।
তিনি বলেন, ঢাকা-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার আদায় তার প্রধান অগ্রাধিকার হবে। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে জাতীয় সংসদসহ দেশি-বিদেশি সব পর্যায়ে চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখবেন বলেও ঘোষণা দেন।
চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন,
“চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কোনো আপস নয়। নাগরিকরা chandabaaj.com-এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ গোপনীয়ভাবে অভিযোগ জানাতে পারবেন। প্রতিটি অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি জানান, মাদক ব্যবসায়ী চক্র দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি যুবসমাজকে সচেতন করতে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইন পরিচালনা এবং মাদকাসক্তদের জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। অপরাধপ্রবণ এলাকা ও জনসমাগমস্থলে সিসিটিভি নজরদারি জোরদার এবং অন্ধকার রাস্তায় পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট স্থাপনের পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তিনি।
নারী ও শিশু নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণপরিবহন ও পাবলিক স্পেসে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন করে যৌন হয়রানি, ইভটিজিং ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ লক্ষ্যে ২৪/৭ হেল্পলাইন চালু করার ঘোষণাও দেন তিনি।
অবৈধ দখলদারিত্ব প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ঢাকা-৮ এলাকায় অবৈধভাবে দখলকৃত বাড়িঘর, দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করা হবে এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি প্রাণীদের প্রতিও নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
স্বাস্থ্যখাতে তিনি বলেন, ঢাকা-৮ এলাকার সব সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে দালাল ও সিন্ডিকেটমুক্ত করা হবে। স্বাস্থ্যসেবাকে ব্যবসা নয়, নাগরিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ফি ও সেবার মান তদারকি করা হবে। আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন, দক্ষ চিকিৎসক-নার্স নিয়োগ ও অবকাঠামো উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়াসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সমন্বিত মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতা কর্মসূচি পরিচালনার অঙ্গীকার করেন তিনি। পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য, মাতৃস্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জরুরি চিকিৎসাসেবার উন্নয়নে পৃথক কর্মপরিকল্পনার কথা বলেন।
শিক্ষাখাতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ঢাকা-৮ এলাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৈষম্যহীন, মেধাভিত্তিক ও নিরাপদ শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। ভর্তি বাণিজ্য, র্যাগিং, গেস্টরুম সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধের ঘোষণা দেন তিনি। আধুনিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে কম্পিউটার ল্যাব, এআই ও প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণ চালুর কথাও বলেন।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি জানান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা তৈরি, স্টার্টআপ ফান্ড গঠন এবং পল্টনে একটি আধুনিক স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার স্থাপনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। নারী উদ্যোক্তা ও তরুণদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সহায়তা কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
নাগরিক সেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংকট নিরসন, যানজট কমাতে পৃথক অফিস ও স্কুল সময়সূচি, ভিআইপি প্রটোকলজনিত ভোগান্তি কমানো এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষণের কথা জানান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করে ঢাকা-৮ কে দূষণমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব করা হবে। বিল্ডিং কোড ও পরিবেশ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন,
“আমি ক্ষমতার রাজনীতি নয়, সেবার রাজনীতি করতে চাই। জনতার এমপি হয়ে জনতার সেবক হিসেবেই কাজ করব। প্রতিটি প্রতিশ্রুতির জন্য আমি জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকব।”