ইপেপার / প্রিন্ট
বিশ্বজুড়ে মুসলিমরা রমজানের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। অনেক দেশে কর্মঘণ্টা কমানো হচ্ছে, স্কুলের সময়সূচি পরিবর্তন হচ্ছে, আর ইবাদতের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। জ্যোতির্বিদ্যার হিসাব অনুযায়ী এই বছর রমজান শুরু হতে পারে ১৯ বা ২০ ফেব্রুয়ারি।
রমজানের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ফানুস বাতি, যা অন্ধকারে আলোর প্রতীক এবং আত্মিক জাগরণের ইঙ্গিত বহন করে। ইতিহাসে দেখা যায়, প্রাচীন মিসরে শিশুরা রমজান মাসে হাতে বাতি নিয়ে রাস্তায় বের হতো।
রমজান নামের উৎপত্তি আরবি শব্দমূল থেকে, যার অর্থ “তীব্র গরম বা দগ্ধ ভূমি”। রোজার মাধ্যমে গুনাহ দগ্ধ হওয়ার ভাবার্থেই এই নাম ব্যবহৃত হয়।
ইসলামপূর্ব যুগেও রমজানের গুরুত্ব:
ইসলাম আগমনের আগে আরব সমাজে রমজান মাসকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হতো। যদিও রোজা ফরজ হয় হজরত মুহাম্মদের সময়, তবে রোজার প্রচলন আগে থেকেই ছিল।
৩৩ বছরে সব ঋতু ঘুরে আসে রমজান:
হিজরি বর্ষ ইংরেজি ক্যালেন্ডারের চেয়ে ছোট। প্রতি বছর রমজান ১০–১২ দিন এগিয়ে আসে, ফলে প্রায় ৩৩ বছরে রমজান মাসে সব ঋতু আসে।
কোথাও ১৬ থেকে ২০ ঘণ্টা রোজা:
বাংলাদেশে রোজার সময় ১২–১৩ ঘণ্টা। তবে উত্তর গোলার্ধের কিছু দেশে, যেমন গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন ও ফিনল্যান্ডে রোজার সময় হতে পারে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত।
২০৩০ সালে দুই রমজান:
ঐ বছর মুসলিমরা একই বছরে দুটি রমজান উদযাপন করবেন—একটি জানুয়ারিতে, আরেকটি ডিসেম্বরে। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে।
২০৩৩ সালে ঈদ ও বড়দিনের মিল:
ঈদুল ফিতর হতে পারে ডিসেম্বরের শেষ দিকে, যা বড়দিনের সঙ্গে খুব কাছাকাছি।
২০৩৩ সালে ৩টি ঈদ:
ওই বছরে ঈদুল ফিতর দুইবার এবং ঈদুল আজহা একবার হবে। সম্ভাব্য তারিখ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করবে।
হোয়াইট হাউসের প্রথম রমজান ভোজ ১৮০৫ সালে:
প্রেসিডেন্ট থমাস জেফারসন প্রথমবার রমজান উপলক্ষে হোয়াইট হাউসে নৈশভোজের আয়োজন করেন, যা দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে সহায়ক হয়।
২০১৭ সালে ট্রাম্প ঐতিহ্য ভেঙেছিলেন:
প্রায় দুই দশক ধরে হোয়াইট হাউসে রমজান শেষে ইফতার আয়োজন হলেও ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো ইফতার আয়োজন করেননি এবং মুসলিম প্রধান কয়েকটি দেশে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
রমজান মাস মুসলিমদের জন্য ঈমান, ধৈর্য ও আত্মশুদ্ধির সময়, যা সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।