ইপেপার / প্রিন্ট
চলমান চট্টগ্রাম বন্দর কর্মবিরতি উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার পর দুই দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসেন বৃহস্পতিবার বিকেলে বন্দর ভবনে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনার পর শুক্রবার ও শনিবার এই আন্দোলন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)-এর যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখার কামাল খান বলেন, উপদেষ্টা শ্রমিক নেতাদের বদলির বিষয়টি দেখবেন। এছাড়া বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার পর জানানো হবে।
উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, রোজার আগে বন্দর বন্ধ করে আন্দোলন করা অত্যন্ত অমানবিক, কারণ এতে বিমানের জ্বালানি বা এভিয়েশন ফুয়েল সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তিনি আরও জানান, সমস্যার সমাধানের জন্য আলোচনা চলছে, আর বন্দর অচলাবস্থার ফলে হওয়া আর্থিক ক্ষতি নিরূপণে একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন পরিচালনা করা হবে। প্রয়োজনে সরকার হার্ডলাইনে যেতে পারে।
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি পরিচালনায় চুক্তি বাতিলের দাবিতে ৩১ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন শুরু হয়। ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালীন কর্মসূচি শুরু হওয়ায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
বৈঠকের আগে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। শত শত শ্রমিক বন্দর ভবনের অদূরে অবস্থান নেন এবং পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক থাকে। নৌপরিবহন উপদেষ্টার গাড়িবহর ভবনে প্রবেশের সময় শ্রমিকরা স্লোগান দিতে থাকে। পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের সহায়তায় তিনি নিরাপদে ভবনে প্রবেশ করেন।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে তারা ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদ করছে।