ইপেপার / প্রিন্ট
পটুয়াখালী-৪ আসনে শত কোটি টাকার কাজের গুঞ্জন, দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীতে বাড়ছেই ভোগান্তিপটুয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীর সাধারণ মানুষের ভাগ্য বদলের কোনো লক্ষণ এখনও স্পষ্ট নয়। উন্নয়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে ভোগান্তি কমার বদলে আরও বেড়েছে। যোগাযোগ, স্বাস্থ্যসেবা, প্রশাসনিক সুবিধা ও দেওয়ানি মামলার জটে নাকাল হয়ে পড়েছে দ্বীপবাসী।
৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে আলোচিত পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া–রাঙ্গাবালী)। স্থানীয় পর্যায়ে গুঞ্জন উঠেছে, একজনের বিশেষ সুপারিশে এই আসনে ৪০০ কোটি টাকারও বেশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। তবে এত বড় অঙ্কের কাজের কথা শোনা গেলেও রাঙ্গাবালীর উন্নয়ন চিত্র বাস্তবে চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় রাঙ্গাবালীর মানুষের প্রতিদিনের জীবন সংগ্রামের মতো। প্রবেশপথের সড়ক, ফেরিঘাট, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও প্রশাসনিক সেবায় রয়েছে চরম সীমাবদ্ধতা। জরুরি রোগী নিয়ে জেলা সদরে যেতে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নদীপথে চলাচল করতে হয়। অনেক সময় সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে বাড়ছে ঝুঁকি।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি দেখা দিচ্ছে দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে। যুগ্ম জেলা জজ আদালত জেলা শহরে হওয়ায় প্রতিটি হাজিরায় রাঙ্গাবালীর মানুষকে নৌপথ ও সড়কপথ মিলিয়ে দীর্ঘ ভ্রমণ করতে হয়। এতে একদিকে যেমন অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে হয়রানি ও দালাল নির্ভরতা বাড়ছে। মামলা মানেই এখন দ্বীপবাসীর কাছে আতঙ্কের নাম।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, উন্নয়নের নামে শুধু সভা-সমাবেশ আর আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে বাস্তব কোনো পরিবর্তন নেই। ফাঁকা আওয়াজ দিয়ে মানুষকে বোকা বানানো হচ্ছে।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
“শত শত কোটি টাকার উন্নয়নের গুঞ্জন শুনি, কিন্তু আমাদের রাস্তা-ঘাট, হাসপাতাল আর আদালত সেবায় কোনো উন্নতি দেখি না। তাহলে এই উন্নয়ন কার জন্য?”
সচেতন মহল বলছেন, ভোগান্তি লাঘবে অবিলম্বে যুগ্ম জেলা জজ আদালত জেলা শহরে বহাল রাখা এবং রাঙ্গাবালীর মানুষের জন্য সহজ বিচারিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কথিত উন্নয়ন বরাদ্দের স্বচ্ছতা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া প্রকাশ করা জরুরি।
রাঙ্গাবালীর মানুষের দাবি এখন একটাই—ঘোষণা নয়, চাই বাস্তব ও দৃশ্যমান উন্নয়ন। অন্যথায় উন্নয়নের নামে এই বৈষম্য ভবিষ্যতে বড় ধরনের জনঅসন্তোষের জন্ম দিতে পারে।