আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ও জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। এসময় সংগঠনটির পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের নিন্দা জানানো হয়।
শনিবার (২২ মার্চ) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ মিছিল করে তারা।
সমাবেশে ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার জন্য দুই হাজারেরও অধিক মানুষকে খুন করতে পারে সেই আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসার জন্য দুই লক্ষেরও অধিক আমাদের বিপ্লবী ভাই-বোনদের খুন করতে, ঘাড় থেকে মাথা আলাদা করতে ন্যূনতম কুণ্ঠাবোধ করবে না।
তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোনও পরিকল্পনা নাই। তাহলে কীসের পরিকল্পনা আছে আপনার? এই রক্ত এবং জীবনের বিনিময়ে আপনারা সেখানে বসেছেন। দিল্লির নির্দেশে আগামীতে এই দেশে নির্বাচন হবে সেজন্য কি আপনাদের এখানে বসানো হয়েছিল? বিগত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ হাজার হাজার নেতাকর্মীদের হত্যা-গুম-খুন করে গেছে তার পরও কীভাবে আপনারা আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছেন? যারা রাজপথে লড়াই করেছিল তারা এই বক্তব্য (উপদেষ্টার বক্তব্য) প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এর নিন্দা জানাচ্ছে।
বিন ইয়ামিন মোল্লা বলেন, একটা গোষ্ঠী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মানুষকে উসকে দিচ্ছে। আমরা বাংলাদেশের মানুষকে সুস্পষ্টভাবে বলবো আপনাদেরকে যদি কেউ অন্ধকারে ঢিল মারতে বলে আপনারা ঢিল মারবেন না। আমরা দেখেছি একজন সমন্বয়ক নেতা সরাসরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হামলার জন্য স্ট্যাটাস দিয়েছে। আমি প্রশ্ন রাখতে চাই আপনারা দেখেছেন এরকম কোনও বৈঠক হয়েছে। কোনও প্রমাণ আছে? তাহলে কেন আমরা সেটার উপর বিশ্বাস রাখব।
তিনি বলেন, কারো পোস্টকে কেন্দ্র করে দেশের জনগণকে অন্ধকারে ঢিল মারতে বলা হলে, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে জনগণকে উসকে দেওয়া হলে আমরা সেটাকে সমর্থন করতে পারি না। বাংলাদেশের ক্রান্তিলগ্নে যেভাবে সেনাবাহিনী দেশ ও জনগণের পক্ষে ছিল বর্তমান সময় এবং ভবিষ্যতেও আমরা বিপ্লবী সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি আপনারা জনগণের পক্ষে থাকবেন। গণহত্যাকারীর পক্ষ আপনারা নেবেন না। রাজনীতি কারা করবে, নির্বাচন কারা করবে, নির্বাচন কবে হবে এগুলো ঠিক করার দায়িত্ব ক্যান্টনমেন্টের নয়। আমরা ক্যান্টনমেন্টের কোনও প্রতিনিধির কাছ থেকে প্রকাশ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এরকম কোনও বক্তব্য পাইনি। সুতরাং কেন আমরা তাদের দিকে আঙ্গুল তুলবো?
বিক্ষোভ সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন