মঙ্গলবার , ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ২৮শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

৭০০ টাকার আশায় বেরিয়ে ফিরলেন লাশ হয়ে— বগুড়ায় বাসচাপায় নিভে গেল ৭ শ্রমজীবী মানুষের জীবন

প্রকাশিত হয়েছে- শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬

দিনের শুরুতে ছিল রুটি-রুজির লড়াই, কিন্তু শেষ হলো মৃত্যুর মিছিলে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোরে বগুড়ার এরুলিয়ার কামলার হাটে কাজের অপেক্ষায় থাকা কৃষি ও দিনমজুর শ্রমিকদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানো শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি বাস উঠে গেলে প্রাণ হারান ৭ জন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৭ জন।

দুর্ঘটনার পর বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও মর্গে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ। নিহত আবু সাঈদ মণ্ডলের মরদেহ জড়িয়ে ধরে বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়েন তার স্ত্রী রিনা বেগম। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন অনেক পরিবার।

স্বজনদের ভাষ্য, আবু সাঈদ ও আমিরুল দুজনই দিনমজুর ছিলেন। সামান্য আয়ের ওপরই চলত তাদের সংসার। অন্যদিকে নিহত নূর মোহাম্মদ ফজরের নামাজ শেষে কৃষি শ্রমিক নিতে কামলার হাটে গিয়েছিলেন, কিন্তু আর জীবিত ফিরে আসেননি।

স্থানীয় শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন ভোরে গাইবান্ধা, রংপুর, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত শ্রমিক এরুলিয়ার কামলার হাটে এসে জড়ো হন। বর্তমানে কৃষি শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি প্রায় ৭০০ টাকা। সেই আয়ের আশাতেই তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পথে নামেন।

শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের সিলকিবান্ধা এলাকায় ঢাকাগামী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়। প্রথমে ঘটনাস্থলে ৩ জন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন— তাজিমুল (৪৭), বেল্লাল হোসেন, আবু সাঈদ (৪৫), আনারুল (৫৫), আমিরুল (৪০), নূর আলম (৪৫) ও জমির মালিক নূর মোহাম্মদ (৭৬)। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।