বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় কঠোর অবস্থানে সরকার, লাইসেন্স বাতিলের ঝুঁকিতে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল

প্রকাশিত হয়েছে- শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসা ও প্রশাসনিক অবহেলার প্রমাণ পাওয়ার পর কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালকে দেওয়া ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটামের মেয়াদ আগামীকাল রোববার শেষ হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব দেয়নি।

এদিকে তদন্ত প্রতিবেদনে গুরুতর অবহেলার বিষয়গুলো উঠে আসার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে হাসপাতালের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরবেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির

হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে নবজাতক মৃত্যুর ঘটনার আইনি দিক, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সহায়তা, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে সমঝোতার বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্তে অবহেলার প্রমাণ মেলায় হাসপাতালটির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তাদের মতে, স্বাস্থ্যসেবায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছোট একটি কক্ষে দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) বন্ধ থাকায় অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল। ফলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে গিয়ে নবজাতকদের জীবনহানির ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অবহেলাকেই ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ ঘটনায় সরকার সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান নেবে। তার ভাষায়, “আইনে যতটুকু কঠোর হওয়া সম্ভব, আমরা ততটুকুই যাব।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৭ মে ছয় নবজাতকের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনার পর ১ জুন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তকালে হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিশু বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক, নার্স, আয়া, রোগীর স্বজন এবং মৃত নবজাতকদের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ The Medical Practice and Private Clinics and Laboratories (Regulation) Ordinance, 1982–এর বিভিন্ন বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই অবহেলাকেই নবজাতকদের মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাসপাতালটিকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে যে, আইন অনুযায়ী কেন তাদের নিবন্ধন ও লাইসেন্স বাতিল করা হবে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, লিখিত বা সরাসরি উপস্থিত হয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে হবে। অন্যথায় পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।