বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেছেন, এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের মানুষ এখনও স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ গ্রহণ করতে পারেনি। তিনি অভিযোগ করেন, বারবার শাসকগোষ্ঠী দেশের স্বাধীনতার মূলনীতি ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে চাপা দিয়ে রেখেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে শাহবাগ পর্যন্ত আয়োজিত একটি বর্ণাঢ্য র্যালি-পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
র্যালিতে ঢাকা মহানগর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, এছাড়াও কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক ইউসুফ ইসলাহী সহ অন্যান্য কার্যকরী পরিষদের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সিবগাতুল্লাহ বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ ‘জুলাই সনদ’-এর ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে রায় দিয়েছে, কিন্তু বর্তমান সরকার তা উপেক্ষা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে প্রায় ২০টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে এবং গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানা গেছে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের ইচ্ছা সংবিধানের চেয়ে বড়। জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত নয়। বিশেষ করে গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সম্পর্কিত অধ্যাদেশ বাতিলের চক্রান্ত শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার সমতুল্য।
শিক্ষা খাত ও মানবাধিকার পরিস্থিতি উল্লেখ করে সিবগাতুল্লাহ বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরেও উন্নত, মানবিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। তরুণ প্রজন্ম এখনো শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত। দেশের মানুষ নিরাপদ নয় এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির মতো অনিয়ম বাড়ছে।
বক্তারা সমাবেশে ছাত্রসমাজকে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান। র্যালি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়। সমাবেশ শেষ হয়ে মহান স্বাধীনতার যুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে