চট্টগ্রাম মহানগরীর পাচঁলাইশ থানাধীন আতুরার-ডিপো এলাকায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে ২৯০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার পূর্বক রহস্য উন্মোচন করেছেন পুলিশ।
কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরে অটোরিকশা থামিয়ে অস্ত্রের মুখে ৩৫০ ভরি ওজনের ৩৬টি স্বর্ণের বার লুটে নেওয়ার রুদ্ধশ্বাস সেই ঘটনার কয়েক দিন পর রহস্য উন্মোচন করল পুলিশ।চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও ঢাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে মূল হোতাসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে ২৯০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ অভিযানের পর বড় সাফল্য এলেও তথ্যহীন রয়ে গেলো ৬০ ভরি স্বর্ণের। এবং উদ্ধারকৃত বারগুলোর মোড়কে অসামঞ্জস্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বলে জানা যায়।
গত (৪ জানুয়ারি) ভোরে কোতোয়ালী থানা এলাকা থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন তিন স্বর্ণ কারিগর। পথে পাঁচলাইশ থানার আতুরার-ডিপো এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে আসা চার ছিনতাইকারী তাদের গতিরোধ করে। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে কারিগর সবুজ দেবনাথ, বিভাস রায় ও পিন্টু ধরকে মারধর করে দুর্বৃত্তরা তাদের কাছে থাকা ৩৫টি স্বর্ণের বার, তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আহত কারিগররা হাজারী লেনের মিয়া শপিং মার্কেটে অবস্থিত ‘জয়রাম ট্রেডার্স’ এর কর্মী। এ ঘটনায় পরদিন ৫ জানুয়ারি সবুজ দেবনাথ নামে একজন বাদী হয়ে পাঁচলাইশ মডেল থানায় একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করেন। এই ঘটনায় তদন্তে নামে পুলিশ ও ডিবি (উত্তর) বিভাগের একটি বিশেষ দল।
ঘটনার তদন্তে নেমে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) গাজীপুরের কাশিমপুর থানার মাধবপুর এলাকা থেকে পুলিশ মামলার মূল অভিযুক্ত সুমন চন্দ্র দাস, মাসুদ রানা ওরফে ‘বাইক বাবু’ ও রফিকুল ইসলাম ওরফে ইমনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সুমন চন্দ্র দাস স্বীকার করেন যে তার নেতৃত্বেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তার স্ত্রী পান্না রানী দাস ওরফে দীপালী রানী দাসকে চট্টগ্রামের হালিশহর এবং চাচাতো ভাই রবি কুমার দাসকে ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনায় পরে বিবেক বণিককেও গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঢাকার মোহাম্মদপুরের বৈশাখী খেলার মাঠসংলগ্ন একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে কাগজের বাক্সে মোড়ানো অবস্থায় ২৯টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে পাঁচলাইশ মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির উপ-কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান জানান, উদ্ধার হওয়া ২৯০ ভরি স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। তবে এজাহারে ৩৫টি স্বর্ণের বারের কথা উল্লেখ থাকলেও উদ্ধার হয়েছে ২৯টি। নিখোঁজ রয়ে যাওয়া ৬০ ভরি স্বর্ণ কোথায় এবং কীভাবে গায়েব হলো তা নিয়ে অস্পষ্টতা কাটেনি।
নিখোঁজ স্বর্ণের বিষয় ও ছয়জনকে গ্রেপ্তার পূর্বক ২৯০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধারের বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি’র) পাঁচলাইশ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল করিমের সাথে একাধিকবার কল হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা দিলেও কোন উত্তর মিলেনি।