আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া জোরদার করেছে National Citizen Party (এনসিপি)। দলটি আগামী ৩০ এপ্রিল উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র পদে প্রথম ধাপে ১০০ জন প্রার্থীর প্রাথমিক তালিকা প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
দলটির নেতারা জানিয়েছেন, প্রার্থীদের যোগ্যতা, জনপ্রিয়তা এবং মাঠপর্যায়ের সাংগঠনিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে এই তালিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। আগেভাগে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করলে তারা নির্বাচনী প্রস্তুতির জন্য বেশি সময় পাবেন— এমনটাই মনে করছে এনসিপি।
ইতোমধ্যে Dhaka North City Corporation ও Dhaka South City Corporation-সহ পাঁচটি সিটি কর্পোরেশনে মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে দলটি। বাকি সিটি কর্পোরেশনগুলোতেও পর্যায়ক্রমে প্রার্থী ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি উপজেলা, পৌরসভা ও কাউন্সিলর পদেও দলীয় সমর্থিত প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এনসিপির উত্তরবঙ্গের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, “সারা দেশে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে আমরা কাজ করছি। প্রথম ধাপে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভার প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করা হবে, এরপর পর্যায়ক্রমে সব জায়গায় প্রার্থী দেওয়া হবে।”
দলটি তরুণদের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, অতীতের রাজনৈতিক পরিচয় বড় বিষয় নয়— বরং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষাই মূল বিবেচ্য। যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন এবং পরিবর্তনের পক্ষে, তাদের এনসিপির অধীনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে, এনসিপি অভিযোগ করেছে যে Bangladesh Nationalist Party (বিএনপি) স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে দলীয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, নির্বাচনের আগে নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে বসিয়ে বিএনপি কৌশলগত সুবিধা নিতে চাইছে।
অন্যদিকে, রাজধানীর কাকরাইলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েকজন ব্যক্তি এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। এর মধ্যে রাজনীতিবিদ, সামাজিক কর্মী ও কনটেন্ট নির্মাতাও রয়েছেন, যা দলটির সম্প্রসারণ কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনই হবে নতুন রাজনৈতিক ধারার পরীক্ষা। তিনি তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, “তারুণ্যের শক্তির মাধ্যমেই নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগাম প্রার্থী ঘোষণা এবং তরুণদের সম্পৃক্ত করার কৌশল এনসিপিকে মাঠপর্যায়ে সংগঠিত হতে সহায়তা করতে পারে। তবে নির্বাচনের বাস্তব চিত্র নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ওপর।