বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

২৭ বছর পর সিংড়া হত্যা মামলায় ৬ জনের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

দীর্ঘ ২৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নাটোরের সিংড়ায় কৃষক হত্যা মামলায় ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৮ এপ্রিল) নাটোর এর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদালত নির্দেশ দেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে চারজন রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন, আর বাকি দুজন এখনও পলাতক রয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত কৃষক মেছের আলীর সঙ্গে একই গ্রামের সোলেমান মৃধার জমি সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলছিল। এই বিরোধের জের ধরে ১৯৯৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পরিকল্পিতভাবে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়। প্রতিবেশী মছিরন বিবি কৌশলে তাকে বাইরে নিয়ে গেলে, কিছুক্ষণ পরই তার চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ছুটে যান।

তারা গিয়ে মেছের আলীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পরদিন নিহতের ছেলে বাদী হয়ে সিংড়া থানা এ আটজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। তবে পরবর্তী সময়ে আসামিরা জামিনে মুক্ত হয়ে যায় এবং বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে থাকে।

মামলার বিচার চলাকালে দুই আসামি মারা যান এবং আরও দুইজন আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘ সময় ধরে সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত অবশেষে এই রায় প্রদান করেন।

রায় ঘোষণার পর আদালতে উপস্থিত দণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামিকে তাৎক্ষণিকভাবে কারাগারে পাঠানো হয়। তাদের নাটোর জেলা কারাগার এ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) শাহেদ মাহমুদ টিটু বলেন, “দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে সন্তুষ্ট।”

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন পর হলেও এ ধরনের রায় বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। একইসঙ্গে অপরাধীদের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।