বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

২৪ ঘণ্টায় বিএসএফের ১০ পুশইন অপচেষ্টা ব্যর্থ, সীমান্তজুড়ে সতর্ক অবস্থানে বিজিবি

প্রকাশিত হয়েছে- বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ১০টি কথিত পুশইন প্রচেষ্টা প্রতিহত করার দাবি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন পুশইন ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অপারেশনাল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

বৃহস্পতিবার বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে বিজিবির টহলদল ৪ থেকে ৫ জন ব্যক্তির বাংলাদেশে অবৈধ প্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়।

একই জেলার আরেকটি সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের একটি প্রিজন ভ্যানে করে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তিকে সীমান্ত গেট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের আবার ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়।

যশোরের গোগা ও রুদ্রপুর সীমান্তেও কয়েকজন নারী-পুরুষকে পুশইনের উদ্দেশ্যে সীমান্তের কাছে অবস্থান করতে দেখা যায় বলে জানায় বিজিবি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধমূলক তৎপরতার কারণে বিএসএফ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নেয় বলে দাবি করা হয়েছে।

জয়পুরহাটের কয়া ও বাসুদেবপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরে প্রায় ১০ জনকে একত্রিত করে পুশইনের প্রস্তুতির তথ্য পেয়ে বিজিবি সতর্ক অবস্থান নেয়। বাড়ানো হয় গোয়েন্দা নজরদারি। এর ফলে সম্ভাব্য ওই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয় বলে জানানো হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তেও কয়েকটি হোল্ডিং সেন্টারে চারজন মুসলিম নাগরিককে বাংলাদেশে পাঠানোর প্রস্তুতির তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে বিজিবি। এসব তথ্য গোয়েন্দা সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। সম্ভাব্য পুশইন ঠেকাতে সেখানে অতিরিক্ত নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তের বিপরীতে বিএসএফ দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে বলে তথ্য পেয়েছে বিজিবি। তবে এ বিষয়ে বিএসএফ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো যোগাযোগ করেনি বলে জানানো হয়েছে।

পঞ্চগড়ের রওশনপুর সীমান্তে একজন ব্যক্তিকে পুশইনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে বিজিবি। স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা শেষে তাকে ভারতের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠানো হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্তের বিপরীতে ভারতের মালদা জেলার একটি হোল্ডিং সেন্টারে আটক ২২ জনকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তরের তথ্যও পাওয়া গেছে। তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর আশঙ্কায় ওই এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এ ছাড়া সিলেটের উৎমাছড়া সীমান্তে স্থানীয়রা দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করে বিজিবির কাছে সোপর্দ করে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করা হলে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়।

নেত্রকোনার কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ভারতের আসাম রাজ্যের একটি বিদ্যালয়ে ১৫ থেকে ২০ জন ব্যক্তিকে একত্রিত করে রাখার তথ্যও পেয়েছে বিজিবি। সীমান্তের কিছু অংশে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় ওই এলাকা দিয়ে পুশইনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে বাহিনীটি। এ কারণে সেখানে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে।

বিজিবি বলেছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, বিদ্যমান আইন এবং বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার পরিপন্থী যেকোনো পুশইন প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলেও দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে বাহিনীটি।

বাহিনীটির ভাষ্য, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।