বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

২০২৫ সালে রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে: টিআইবি

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে দেশে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর সারা দেশে মোট ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ১০২ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ১,৩৩৩টি অস্ত্র নিখোঁজ হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরবর্তী ৩৬ দিনে অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী হত্যার শিকার হয়েছেন।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই তথ্যগুলো তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া এবং নতুন করে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ায় সহিংসতার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী মোট জনবলের মাত্র ৯–১০ শতাংশ পুলিশ সদস্য, যার ফলে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত।

২০২৫ সালে সংখ্যালঘুদের ওপর ৫০টির বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা নির্বাচনী পরিবেশকে উদ্বেগজনক করেছে। এছাড়া ডিপফেক ও ভুল তথ্য ছড়ানোর হুমকিও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে গত তিন নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়া, উপদেষ্টা দলীয়করণ এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের মতো দলগুলোর জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

এ ছাড়া ৪৬টি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত অন্তত ২৭টি রিট আবেদন হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১২,৫৩১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র হিসেবে অনুপযোগী

টিআইবি’র পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, প্রার্থীর মনোনয়ন যাচাই-বাছাই, ঋণ খেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাত সন্দেহজনক। এছাড়া হলফনামায় দাখিলকৃত তথ্য যাচাই করার সক্ষমতার ঘাটতিও চিহ্নিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতিটি বড় রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধেই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তবুও আচরণবিধি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশনের দৃঢ় অবস্থানের ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে।

টিআইবি নির্বাচন পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে, নির্বাচন ও গণভোট উভয় ক্ষেত্রেই প্রযুক্তি, আইন ও প্রক্রিয়াগত সংস্কারের প্রয়োজন। নিরাপত্তা ঝুঁকি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ভুল বা অপতথ্য ছড়ানোর আশঙ্কা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।