এক টাকায় আইন ও বিচার বিভাগ পরিচালনা সম্ভব নয় এবং এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে দেশ পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আইন ও বিচার বিভাগের বাজেট বরাদ্দ এবং ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
অধিবেশনে আইন মন্ত্রণালয়ের জন্য ২ হাজার ১৮৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকার বাজেট বরাদ্দ অনুমোদনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। তবে বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য এই বরাদ্দ কমিয়ে ১ টাকায় নামিয়ে আনার ছাঁটাই প্রস্তাব দেন এবং বিচার বিভাগের নানা অনিয়ম ও সংকট তুলে ধরেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য আল ফারুক আব্দুল লতিফ অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও পদোন্নতির বিষয়গুলো এখনো সরকারের হাতে থাকায় এটি পুরোপুরি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। তিনি বিচারক সংকট, মামলাজট ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন।
পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেন, দেশে ২৫ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন থাকলেও বিচার বিভাগের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের ঘাটতি রয়েছে। তিনি পৃথক হাইকোর্ট বেঞ্চ ও পেপারলেস বিচারব্যবস্থার দাবি জানান।
অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কেরামত আলী থানার কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও পুলিশের তদন্ত ব্যবস্থার দুর্বলতার সমালোচনা করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিচার বিভাগের জন্য বাজেট জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ০৩ শতাংশ বলে উল্লেখ করে এটিকে অত্যন্ত অপ্রতুল বলে মন্তব্য করেন। তিনি মামলাজট ও আইনজীবীদের আর্থিক সংকটের বিষয়ও তুলে ধরেন।
সংসদে উত্থাপিত এসব ছাঁটাই প্রস্তাবের জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, কেউ বরাদ্দ কমানোর পক্ষে আবার কেউ একই সঙ্গে বরাদ্দ বৃদ্ধির পক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন, যা পরস্পরবিরোধী। তিনি বলেন, কোনো বিকল্প পরিকল্পনা ছাড়া বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ ১ টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব বাস্তবসম্মত নয়।
তিনি আরও বলেন, এক টাকায় বিচার বিভাগ চালানো সম্ভব নয়—এ ধরনের ধারণা বাস্তবতা বিবর্জিত এবং তা গ্রহণ করা হলে রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। আইনমন্ত্রী ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নাকচ করে মূল বাজেট অনুমোদনের আহ্বান জানান।