বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

১৫ ডিগ্রিতে নেমে চুয়াডাঙ্গায় শীতের অনুভূতি, ব্যস্ত সময় পার করছেন খেজুর গাছিরা

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫

চুয়াডাঙ্গায় শীতের আমেজ এখন স্পষ্টভাবে অনুভূত হতে শুরু করেছে। ভোর থেকে হালকা কুয়াশা ও শীতল হাওয়ার কারণে জেলার গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে শহরজুড়ে সকালেই দেখা যাচ্ছে শীতের পোশাকে মানুষের আনাগোনা। আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে এ জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হিসেবে গণ্য হয়েছে। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৩ শতাংশ।

আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রকিবুল হাসান জানান, গত কয়েকদিন ধরেই তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমছিল। সামনে দু–একদিন তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর আবার কিছুটা অস্থিরতা দেখা দিতে পারে, অর্থাৎ তাপমাত্রা সামান্য উঠানামা করবে।

শীত নামার সঙ্গে সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিতে জীবন্ত হয়ে উঠেছে মৌসুমি খেজুর রস ও গুড় নিয়ে ব্যস্ততা। চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চলে শীতকাল মানেই খেজুর গাছ ঘিরে নতুন ঋতু ও স্বাদ। গাছিরা এরই মধ্যে খেজুর গাছে নল বসানোর কাজ শুরু করেছেন। ভোরের শীতের মাঝেই গাছের গোড়ায়, ডগায় ও নলের মুখে জমে ওঠা রস দেখে গাছিরা নিশ্চিত হয়ে উঠছেন যে এবারও ভালো মৌসুম আসছে।

চুয়াডাঙ্গা সদরের দীননাথপুর গ্রামের তরুণ খেজুর গাছি সাদ্দাম হোসেন বলেন, তাদের পরিবারে খেজুর গাছ তোলা পেশা হিসেবে চলে আসছে বহু প্রজন্ম ধরে। এ বছর তিনি একশত খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করবেন বলে জানান। তিনি বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই রস সংগ্রহ শুরু হবে। এরপর সেই রস জ্বাল দিয়ে তৈরি হবে গুড়, যা স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা এবং দেশের বাইরে পর্যন্ত পাঠানো হবে।

শীতের এই সময় খেজুর রস ও গুড় শুধু খাদ্য নয়, বরং এটি এ অঞ্চলের সংস্কৃতি, স্মৃতি ও অর্থনৈতিক চক্রেরও একটি বড় অংশ। তাই তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রিতে নেমে যাওয়া শুধু আবহাওয়ার খবর নয়, এটি চুয়াডাঙ্গা ও আশপাশের মানুষের জন্য উৎসবমুখর মৌসুমের আগমনী বার্তা।