শুক্রবার , ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

হোমনায় পুলিশ-ফায়ার সার্ভিসের চেষ্টায় পানির ট্যাংকি থেকে লাশ উদ্ধার

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

কুমিল্লার হোমনায় পুলিশ ও দমকল বাহিনীর ২৪ ঘণ্টার যৌথ চেষ্টায় পৌরসভার নির্মাণাধীন একশ ফুট উচ্চতার একটি পানির ট্যাংক থেকে অর্ধ গলিত অজ্ঞাত পুরুষের একটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপরে পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের পুরাতন ডাকবাংলো এরিয়া থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে পুলিশ ও দমকল বাহিনী লাশটি উদ্ধার অভিযান চালান।

হোমনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্ষেমালিকা চাকমা বলেন, দেবিদ্বার পৌরসভায় পানি সপ্লায়ের জন্য অনুরূপ একটি ট্যাংকি নির্মাণ করতে হোমনা পৌরসভার নির্মানাধীন পানির ট্যাংকটি পরিদর্শনে আসেন দেবিদ্বার পৌরসভার লোকজন। পরে মেসার্স জিলানী কনস্ট্রাকশনের নির্মাণ শ্রমিক মিজান ট্যাংকটি পরিদর্শনের জন্য ওপরে ওঠেন।

মিজান তেইশ ফুট গভীরতার ওই ট্যাংকটির এক পাশের ভয়েড দিয়ে ভেতরে উঁকি দিলে এটির ভেতরে আধো আলো আধো অন্ধকারে মানুষের লাশ সদৃশ একটা কিছু দেখতে পান। তখন তিনি এটাকে মুর্তি হতে পারে মনে করে প্রথমে তেমন গুরুত্ব দেননি। এরপর বিষয়টি সাইট প্রকৌশলীকে জানান। রবিবার সাইট ম্যানেজার মো. রায়হান সওদাগর বিষয়টি আমাকে জানান। আমি তাৎক্ষণিক থানা ও ফায়ার সার্ভিসকে লাশটি উদ্ধারেরর নির্দেশ দেই।

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জয়নাল আবেদিন জানান, চব্বিশ ঘণ্টা পর লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি ধারনা করে বলেন, কোনো ভারসাম্যহীন ব্যক্তি সিঁড়ি বেয়ে সুউচ্চ পানির ওই ট্যাংকিতে ওঠে ভেতরে কী আছে দেখতে গিয়ে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স আনুমানিক ৪০ হতে পারে।

পরনে কোনো জামা কাপড় ছিল না। ধারণা করা হচ্ছে ১০/১২ দিন আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে এর কারণ অনুসন্ধানে পুলিশের তদন্ত অভিযান অব্যাহত আছে।
হোমনা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার মাজেদুল ইসলাম জানান, পানির ট্যাংকিটি ছিল ভূমি থেকে ১০০ ফুট ওপরে এবং এর গভীরতা ছিল ২৩ ফুট।

এর ভেতরে প্রবেশের মুখটি খুব সরু এবং বন্ধ থাকায় রবিবার দপুর থেকে রাত পর্যন্ত চেষ্টা করেও লাশটি বের করা যায়নি। আজ (গতকাল) সোমবার সকাল থেকে চেষ্টার পর এর ঢাকনাটি ভেঙ্গে ভেতর থেকে লাশটি বের করা হয়।