বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

হেয়ার কাট বাতিল ও আমানত ফেরতের দাবিতে চট্টগ্রামে ব্যাংক গ্রাহকদের বিক্ষোভ

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামে একীভূত হওয়া একাধিক ইসলামী ব্যাংকের আমানত ফেরত ও ‘হেয়ার কাট’ পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন গ্রাহক ও আমানতকারীরা। দীর্ঘদিন ধরে টাকা উত্তোলনে ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের জুবলি রোড এলাকায় অবস্থিত একটি ব্যাংক শাখার ভেতরে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুপুর প্রায় ১২টার দিকে শতাধিক আমানতকারী শাখার ভেতরে অবস্থান নিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে First Security Islami Bank, Global Islami Bankসহ কয়েকটি ইসলামী ব্যাংকে তারা দীর্ঘদিন ধরে আমানত রেখেছেন। তবে বর্তমানে তারা প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা তুলতে পারছেন না। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পারিবারিক খরচ চালাতে চরম সংকটে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।

আন্দোলনকারীদের দাবি, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ‘হেয়ার কাট’ নামে একটি নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে আমানতের একটি অংশ কেটে রাখছে, যা তারা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছেন। তাদের মতে, আমানত হলো গ্রাহকের কষ্টার্জিত অর্থ, সেখানে কোনো ধরনের কাটছাঁট না করেই পুরো টাকা ফেরত দিতে হবে।

বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের এক গ্রাহক ও প্রবাসী হাজী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “হেয়ার কাট পদ্ধতির কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমাদের কষ্টের টাকা আমাদের পুরোটা ফেরত দিতে হবে।”

অন্যদিকে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক জয়া চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “টাকা জমা রেখে এখন রাস্তায় রাস্তায় আন্দোলন করতে হচ্ছে। আমানতকারীদের টাকা কোনো ধরনের কাটছাঁট ছাড়া ফেরত দিতে হবে।”

বিক্ষোভ চলাকালে ব্যাংক শাখার ভেতরে কোনো কর্মকর্তাকে উপস্থিত পাওয়া যায়নি বলে জানান আন্দোলনকারীরা। ফলে গ্রাহকদের ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে এবং তারা শাখার ভেতরে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।

এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি ঘিরে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, একীভূত ব্যাংকিং কাঠামো ও আমানত সুরক্ষা নীতির স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এমন পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।