যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কার মধ্যে ইরান ‘সর্বোচ্চ প্রতিরক্ষামূলক প্রস্তুতি’ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। ইরানের সামরিক বাহিনী যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজনে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআরজিসির বিমানবাহিনীর কমান্ডার সরদার মুসাভি জানিয়েছেন—ইসরায়েলের সঙ্গে গত জুনে হওয়া ১২ দিনের যুদ্ধের পর ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করা হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আগের চেয়ে আরও বাড়ানো হয়েছে। ফলে বর্তমানে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
এদিকে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহ আরও কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে যদি কোনো হামলা চালানো হয়, তাহলে শত্রুপক্ষের জন্য অনেক অপ্রত্যাশিত চমক অপেক্ষা করছে।” তিনি বলেন, হামলা হলে ইরান পূর্ণ শক্তি নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে।
নাসিরজাদেহ যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদেরও সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো হামলায় যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করবে, তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তিনি আরও জানান, সামরিক উৎপাদন সক্ষমতা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে ইরান।
এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে যোগাযোগ আপাতত স্থগিত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে করে সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
এরই মধ্যে তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে—ইরানে কোনো হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানা হবে। ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।