বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

হাটে নেই আশানুরূপ ক্রেতা, অ্যাগ্রো ফার্মে ঝুঁকছেন নগরবাসী

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬

চট্টগ্রাম: কোরবানির ঈদ সামনে রেখে গ্রামাঞ্চলের পশুর হাটে গরু তুলেছেন প্রান্তিক ও মাঝারি খামারিরা। তবে ঈদের মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও আশানুরূপ ক্রেতা পাচ্ছেন না তারা। বিশেষ করে বড় গরুর বাজারে ক্রেতার আগ্রহ কমে যাওয়ায় হতাশ খামারিরা।

খামারিদের দাবি, শহরের অনেক ক্রেতা এখন সরাসরি হাটে না গিয়ে অনলাইনভিত্তিক অ্যাগ্রো ফার্ম থেকে পশু কিনছেন। স্বাস্থ্যসনদ, বাসায় পৌঁছে দেওয়ার সুবিধা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার কারণে অ্যাগ্রো ফার্মগুলোর প্রতি আস্থা বাড়ছে।

আনোয়ারা উপজেলা–র হাইলধর এলাকার খামারি আনিসুর রহমান বলেন, কয়েক মাস ধরে লালন-পালন করা বড় ষাঁড় গরু নিয়ে হাটে এলেও কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। তার অভিযোগ, শহরের বড় ক্রেতারা এখন আর গ্রামের হাটে তেমন আসেন না।

সরেজমিনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, অনেক খামারি সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গরু নিয়ে অপেক্ষা করলেও ক্রেতার সংখ্যা তুলনামূলক কম। অনেক ক্রেতা হাটে এসে পশু দেখে দাম যাচাই করলেও পরে অ্যাগ্রো ফার্ম থেকেই গরু কিনছেন বলে জানান বিক্রেতারা।

খামারিদের অভিযোগ, বড় ব্যবসায়ী ও মৌসুমি অ্যাগ্রো ফার্মগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে ক্রেতা টানছে। ফলে প্রান্তিক খামারিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা কম দামে গরু ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, পরে সেই গরুই শহরে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

তবে অ্যাগ্রো ফার্ম সংশ্লিষ্টদের দাবি, আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পশু পালন এবং অনলাইন সেবার কারণেই ক্রেতারা তাদের দিকে ঝুঁকছেন। অনেক ক্রেতা ছবি ও ভিডিও দেখে আগেই পশু পছন্দ করে রাখছেন।

ব্যাংক কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম বলেন, ব্যস্ততার কারণে গ্রামের হাটে যাওয়ার সময় হয় না। তাই তিনি আগ্রাবাদের একটি অ্যাগ্রো ফার্ম থেকে দুই লাখ ১১ হাজার টাকায় গরু কিনেছেন।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবার জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি। এর বিপরীতে স্থানীয় খামারিদের কাছে মজুত রয়েছে ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি পশু।

চট্টগ্রাম জেলা ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশন–এর সভাপতি নুরুর হুদা বলেন, গ্রামের খামারিরা দীর্ঘ সময় ও শ্রম দিয়ে পশু লালন-পালন করেন। কিন্তু বড় ক্রেতারা গ্রামে না যাওয়ায় তারা এখন হতাশ হয়ে পড়ছেন।