হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের টোল আরোপের পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপার।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) লন্ডন এ এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি একটি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক জলপথ এবং বৈশ্বিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী কোনো দেশ এখানে একতরফাভাবে টোল আরোপ বা অবরোধ জারি করতে পারে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত রাখা।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুধু বর্তমান পরিস্থিতির জন্য নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্যও এই প্রণালির অবাধ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক জলপথে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখা বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, লেবাননে ইসরায়েল এর সামরিক অভিযানেরও সমালোচনা করেন ইয়েভেট কুপার। তিনি বলেন, সেখানে সংঘাত অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না।
প্রসঙ্গত, ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে আগাম টোল দিতে হবে। এই টোল ক্রিপ্টোকারেন্সি বা চীনা মুদ্রা ইউয়ানে পরিশোধ করতে হবে।
অন্যদিকে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, তেলবাহী জাহাজগুলোর কাছ থেকে প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার করে টোল নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট। এখানে কোনো ধরনের বাধা বা অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।