বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

হরমুজে টোল যুদ্ধ: সমুদ্রপথে নতুন চাপ

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে নতুন এক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে। যুদ্ধবিরতির মাঝেই এই প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে ইরানওমান

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই টোল থেকে প্রাপ্ত অর্থ দেশের ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে ব্যয় করবে ইরান। তবে ওমান এই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সুস্পষ্ট অবস্থান জানায়নি।

বিশ্ব বাণিজ্যের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি—যার মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও পণ্য পরিবহন হয়—যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। সামুদ্রিক জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা বলছে, আগের তুলনায় এখন মাত্র ৫ শতাংশ জাহাজ এই পথ ব্যবহার করছে। ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের চাপ।

বর্তমানে সীমিত আকারে যেসব জাহাজ চলাচল করছে, তার মধ্যে রয়েছে ভারত, পাকিস্তানসহ আরও কয়েকটি দেশের পতাকাবাহী জাহাজ। তবে ঝুঁকি ও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে অনেক শিপিং কোম্পানি বিকল্প পথ খুঁজছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ইরান প্রতিটি জাহাজ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ফি নির্ধারণ করেছে। যদিও এই ফি বাস্তবে জাহাজ মালিকরা পরিশোধ করছে কিনা, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই টোল আরোপ বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন করে ব্যয় বৃদ্ধি করবে এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে। বিশেষ করে তেল পরিবহনের খরচ বেড়ে গেলে তার প্রভাব পড়বে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামে।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নতুন এক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত টানাপোড়েন—যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।