পবিত্র হজ পালন শেষে বাংলাদেশি হাজিদের দেশে ফেরা শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৫টি ফিরতি ফ্লাইটে মোট ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজি দেশে পৌঁছেছেন। একই সময়ে সৌদি আরবে হজ পালন করতে গিয়ে ৩৭ জন বাংলাদেশি হাজির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের আইটি হেল্প ডেস্ক প্রকাশিত সর্বশেষ দৈনিক বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বুলেটিন অনুযায়ী, দেশে ফেরা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪১৬ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ৭৫৯ জন রয়েছেন।
ফিরতি যাত্রী পরিবহনে সবচেয়ে বেশি হাজি বহন করেছে Flynas। এয়ারলাইনটি ৩ হাজার ৩০০ জন হাজিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনেছে। এছাড়া Biman Bangladesh Airlines পরিবহন করেছে ১ হাজার ১৮৪ জন এবং Saudia পরিবহন করেছে ১ হাজার ৬৯১ জন হাজি।
হজ-পরবর্তী প্রত্যাবর্তন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত মোট ১৫টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করেছে ৩টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ৪টি এবং ফ্লাইনাস ৮টি ফ্লাইট।
এদিকে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি হাজিদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ ও ১৩ জন নারী। তাদের মধ্যে পবিত্র মক্কা নগরীতে ২৭ জন এবং মদিনা নগরীতে ১০ জন মারা গেছেন।
হজ বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে, সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১৭৬ জন বাংলাদেশি হাজি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে ২৬ জন হাজি বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হজ-সংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রম তদারকির অংশ হিসেবে শনিবার মক্কায় বাংলাদেশ হজ মিশনের কনফারেন্স কক্ষে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় হাজিদের নির্বিঘ্নে দেশে ফেরা, আবাসন, চিকিৎসাসেবা এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা, চিকিৎসক এবং আইটি দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জনসহ মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রীর কোটা নির্ধারণ করা হয়। বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীদের সৌদি আরবগামী প্রথম ফ্লাইট ছিল ১৮ এপ্রিল এবং শেষ ফ্লাইট ২১ মে। অন্যদিকে ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে ৩০ মে থেকে, যা আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে।