বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশি জনবল নিতে চায় লিবিয়া, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬

স্বাস্থ্য খাতে জনবলের ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে Libya সরকার। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের সহযোগিতা কামনা করেছে দেশটি।

গত বৃহস্পতিবার লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহর সঙ্গে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী Dr. Mohammed Al-Ghouj-এর বৈঠকে এ আগ্রহের কথা জানানো হয়।

বৈঠকের শুরুতে রাষ্ট্রদূত মন্ত্রীকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং বলেন, Bangladesh ও লিবিয়ার মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। অতীতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী লিবিয়ার স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং বর্তমানে অনেকেই বিভিন্ন হাসপাতালে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন বেতন-ভাতা অনিয়মিত থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশি পেশাজীবীরা দায়িত্ব পালনে অবিচল থেকেছেন, যা লিবিয়ার জনগণের কাছে তাদের প্রতি আস্থা আরও বাড়িয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বর্তমানে কর্মরত বাংলাদেশি পেশাজীবীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত করায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি কিছু পেশাজীবীর বেতন-ভাতা এখনও প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে থাকায় তা দ্রুত সমাধানের অনুরোধ জানান।

এছাড়া, দেশে ফিরে যাওয়া ও বর্তমানে কর্মরত সকল বাংলাদেশি পেশাজীবীর বকেয়া বেতন দ্রুত পরিশোধ, বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী চুক্তি নবায়ন, চুক্তিভিত্তিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

জবাবে লিবিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাংলাদেশি স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন এবং বেতন প্রদানে বিলম্ব হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, ইতোমধ্যে মাসিক বেতন নিয়মিত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

এছাড়া, বাংলাদেশি পেশাজীবীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে জানান তিনি। দেশে ফিরে যাওয়া পেশাজীবীদের বকেয়া পরিশোধে একটি বিশেষ কমিটি কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন।

বৈঠকের শেষে উভয়পক্ষ পারস্পরিক যোগাযোগ জোরদার এবং প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একমত পোষণ করে।