বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় হলেও ‘অদৃশ্য দলীয় প্রভাব’ নিয়ে শঙ্কা বিশ্লেষকদের

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাতিল করে নির্দলীয় কাঠামো ফিরিয়ে আনার আইনগত উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবে এর পূর্ণ কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নতুন আইনের ফলে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিটি কর্পোরেশন পর্যন্ত নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় মনোনয়ন বন্ধ হচ্ছে, তবে মাঠপর্যায়ে দলীয় প্রভাব পুরোপুরি শেষ হবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ‘স্থানীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’সহ পাঁচটি সংশোধনী বিল পাসের মাধ্যমে এই পরিবর্তন আনা হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ও গেজেট প্রকাশের পর এটি কার্যকর হবে।

 কী পরিবর্তন আসছে

নতুন আইনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলো আর সরাসরি প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে না। সব প্রার্থীকে ‘স্বতন্ত্র’ হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। এই পরিবর্তন প্রযোজ্য হবে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে।

এর আগে ২০১৫ সালে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন চালু করা হয়েছিল, যা পরে সহিংসতা, মনোনয়ন বাণিজ্য এবং সামাজিক বিভাজন বাড়ায় বলে সমালোচিত হয়।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা বিশ্লেষক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, শুধু আইন পরিবর্তন করলেই সমস্যা সমাধান হবে না।

তার মতে, রাজনৈতিক দলগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন না দিলেও ‘অদৃশ্যভাবে’ পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন দিতে পারে, যা নির্বাচনকে আবারও দলীয় প্রভাবের মধ্যে নিয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের দলীয়করণ সংস্কৃতির কারণে প্রকৃত নির্দলীয় পরিবেশ তৈরি করা সহজ নয়। যোগ্য প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে নির্বাচনের গুণগত মান বাড়বে না।

 মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা

বিশ্লেষকদের মতে, আইনগতভাবে নির্দলীয় ব্যবস্থা ফিরলেও স্থানীয় রাজনীতিতে দলীয় পরিচয় ও প্রভাব সম্পূর্ণভাবে মুছে যাওয়া কঠিন। ফলে ‘নির্দলীয় নির্বাচন’ বাস্তবে কতটা নিরপেক্ষ হবে, তা নির্ভর করবে রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার ওপর।

সব মিলিয়ে, আইনে নির্দলীয় কাঠামো ফিরলেও মাঠের রাজনীতিতে তার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে এখনই প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।