বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

স্থানীয় নির্বাচনে বড় পরিবর্তনের পথে ইসি: পোস্টার-ইভিএম বাদ, বাড়ছে প্রার্থীর জামানত

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার আনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রচারণার ধরন, প্রার্থী হওয়ার শর্ত এবং ভোটগ্রহণ পদ্ধতিতে একসঙ্গে বেশ কয়েকটি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।

নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দীর্ঘদিনের পরিচিত কাগুজে পোস্টারের ব্যবহার বন্ধ করা হতে পারে। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর ভোটিং ব্যবস্থা ইভিএম থেকেও সরে আসছে কমিশন। নির্বাচনী ব্যয় কমানো, পরিবেশ দূষণ রোধ এবং ভোটারদের জন্য সহজ ও নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যেই এসব পরিবর্তন আনার কথা ভাবা হচ্ছে।

ইসি সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরের নির্বাচনকে আরও সুশৃঙ্খল ও নিরপেক্ষ করতে আইন, বিধিমালা ও আচরণবিধিতে সংশোধন আনা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে কমিশন একটি সমন্বিত আচরণবিধি তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জন্য একই ধরনের নিয়ম কার্যকর করা যায়।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আব্দুর রহমানেল মাছুউদ গণমাধ্যমকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিভিন্ন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের কাজ চলছে। কমিশনের বৈঠকে এসব পরিবর্তনের খসড়া চূড়ান্ত করা হবে এবং পরে কমিশনের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

তিনি জানান, নতুন প্রস্তাবে নির্বাচনী পোস্টার না রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। এছাড়া অনলাইন মনোনয়ন জমা দেওয়ার সুযোগও সীমিত করা হতে পারে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা হলো প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি। কমিশনের মতে, খুব কম জামানতে বিপুল সংখ্যক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিলে ব্যালট পেপার অস্বাভাবিক বড় হয়ে যায়, যা ভোটারদের বিভ্রান্ত করে এবং ভোটগ্রহণে সময় বাড়ায়। তাই “গুরুত্বপূর্ণ ও যোগ্য” প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে জামানতের অঙ্ক বাড়ানোর চিন্তা করছে ইসি।

বর্তমানে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের জামানত ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতে ২০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের ক্ষেত্রেও ভোটারসংখ্যা অনুযায়ী আলাদা জামানত দিতে হয়। এর আগে ২০২৪ সালে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে জামানতের পরিমাণ ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছিল।

নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক করতে “ইলেকশন সিডিউল ম্যানেজমেন্ট মডিউল (ইএমএস)” নামে একটি সফটওয়্যার তৈরির কাজও শুরু করেছে ইসি। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ, গেজেট প্রকাশ, শপথ গ্রহণ, ওয়ার্ড বিন্যাস, ভোটার তালিকা এবং মামলাসংক্রান্ত তথ্য একসঙ্গে সংরক্ষণ ও হালনাগাদ করা হবে। মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ১৫ মের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে দেশে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৫০০ উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ এবং ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এত বড় পরিসরের নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও নিয়ন্ত্রিত করতেই কমিশনের এই সংস্কার উদ্যোগ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।