কুষ্টিয়ায় কুমারখালীতে বালিকা বিদ্যালয়ের নির্মাধীন ভবনের পুরাতন রড ও লোহার দরজা চুরির অভিযোগ উঠেছে খোদ বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান ওরফে আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে।
আলাউদ্দিন নগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে গভীর রাতে নৈশ্য প্রহরীকে সাথে নিয়ে এমন কান্ড ঘটালেও অস্বীকার করছেন প্রধান শিক্ষক। তবে ওই রাতের চাঞ্চল্যকর সিসি টিভির ফুটেজ এসেছে প্রতিবেদকের হাতে। এদিকে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেবার আশ্বাস দিয়েছে কতৃপক্ষ।
জানাযায় কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের কুষ্টিয়া রাজবাড়ী মহাসড়কের পাশেই ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই ইউনিয়নের একমাত্র বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় । তবে এমন ঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। হাতে আসা সিসি টিভির ফুটেজ দেখা যায় ২১ তারিখ রাতে প্রধান শিক্ষিক এবং নৈশ্য প্রহরীকে বিদ্যালয়ে ঘুরাফেরা করতে।
আর স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রধান শিক্ষিক ও নৈশ্য প্রহরী মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে প্রায় দশ মন রড ও লোহার দরজা সিসিটিভি বন্ধ করে ভ্যান যোগে সরিয়ে নেন। চলে যাওয়ার সময় বলেন এখন ওয়াইফাই চালু করা আছে তোমরা গিয়ে ব্যবহার করো। বিদ্যালয়ের একাধিক সহকারী শিক্ষক ও শিক্ষিকা জানান,সকালে এসে আমরা রড দরজা দেখতে না পেয়ে খুজাখুজি করতে থাকি পরে সিসি টিভিতে দেখতে পাই, রাত ৮টার দিকে আধাঘণ্টার জন্য সিসিটিভি বন্ধ করে প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান ও নৈশ্যপ্রহরী সিদ্দিকুর রহমান ভ্যানে করে রড নিয়ে যান।
সিসিটিভি ফুটেজে চুরির আগে ও পরের দৃশ্য থাকলেও মাঝের ৩০ মিনিটের ফুটেজ নেই। সেইসাথে সিসি টিভির ফুটেজ সাংবাদিকদের দিতেও শিক্ষকদের বাধা দেন প্রধান শিক্ষিক আব্দুল মজিদ । এছাড়াও শিক্ষকরা স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন রাতে প্রধান শিক্ষক ও নৈশ্য প্রহরী মিলে ভ্যানে করে নিয়ে গেছে। সেসময় তারা আরো বলেন, আমরা এর সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই। তবে এর মধ্যেই নিজেকে আড়াল করতে বিদ্যালয়ের নৈশ্য প্রহরীকে গোপনে শোকজ করেছেন প্রধান শিক্ষক । অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে প্রধান শিক্ষক ক্যামেরার সামনে কথা বলেননি। তিনি দাবি করেন, বিদ্যালয়ে কিছুই ঘটেনি। সেইসাথে সংবাদ না করার অনুরোধও জানান তিনি। সেসময় সিসি ক্যামেরা দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে অপারগতা জানান। তাহলে কেনো সহকারী শিক্ষকরা চুরির অভিযোগ তুলছেন, কোন কারনেই তিনি নৈশ্য প্রহরীকে সাথে নিয়ে রাতে বিদ্যালয়ে ছিলেন, আর কেনোইবা নৈশ্য প্রহরীকে শোকজ করা হলো এমন প্রশ্নের সদউত্তর দিতে পারেননি প্রধান শিক্ষিক মজানুর রহমান ওরফে আব্দুল মজিদ। ঘটনার পর থেকে নৈশ্যপ্রহরী সিদ্দিকুর রহমান পলাতক রয়েছে, মোবাইল ফোনও পাওয়া গেছে বন্ধ ।
এবিষয়ে কুমারখালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাজমুল হক জানান, বিষয়টি শুনেছি, আমি অন্য একটা স্কুল পরিদর্শনে বাহিরে আছি । দ্রুতই বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও দ্রুতই বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রান্ত) নাভিদ সরওয়ার।
প্রধান শিক্ষিক মিজানুর রহমান ওরফে আব্দুল মজিদের বিরুদ্ধে এর আগেও শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি মোবাইল সীম জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ, শিক্ষকরা তার মতের বাহিরে গেলেই কখনও শোকজ কখনও বরখাস্ত, আবার একজন শিক্ষককে দুইটা প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ করে দেওয়সহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে ।