বৃহস্পতিবার , ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ৯ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

স্কুলের জমি দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগে নুরুজ্জামান কাফিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জমি দখলের চেষ্টা, মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণ এবং চাঁদা দাবির অভিযোগে আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান এবং বড় ভাই মামুনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।

রোববার (২১ জুলাই) বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম কলাপাড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১১ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্তরা একটি ভেকু, ভ্যান, কোদাল ও খোয়া নিয়ে বিদ্যালয়ের রজপাড়া মৌজার বিএস ১২ নম্বর খতিয়ানের ৫৯ নম্বর দাগভুক্ত জমিতে প্রবেশ করেন। পরে ওই জমির মাটি কেটে জমির আকার-আকৃতি পরিবর্তন করে সেখানে চলাচলের রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করা হয়।

খবর পেয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম পাঁচজন সহকারী শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, এতে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ও শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখানো, ধাক্কাধাক্কি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, পরে অভিযুক্তরা প্রায় ১১০ ফুট দীর্ঘ ও ৩০ ফুট প্রশস্ত, আনুমানিক ছয় শতাংশ জমির মাটি কেটে ট্রলিতে করে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেন। এরপর সেখানে খোয়া ফেলে রাস্তা নির্মাণ করা হয়। এতে প্রায় এক লাখ টাকার মাটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বিদ্যালয়ের প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম জানান, রজপাড়া মৌজায় বিদ্যালয়ের নামে মোট ২১ দশমিক ৭৬ একর জমি রয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ওই জমি ভোগদখল করে আসছে। ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। পরে থানায় গেলে পুলিশ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। বিদ্যালয়ের সম্পত্তি রক্ষায় তিনি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।

তবে মামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুরুজ্জামান কাফি। তার দাবি, জমিটির মালিকেরা দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে সুপ্রিম কোর্ট থেকে রায় পেয়েছেন এবং তিনি তাদের কাছ থেকে বায়না চুক্তির মাধ্যমে জমিটি কিনেছেন। মালিকপক্ষ জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর সেখানে রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

কাফি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তার কোনো সাক্ষাৎ বা কথা হয়নি। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলেও তিনি দাবি করেন।

কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ফেরদৌস মিয়া জানান, মামলাটি রুজু করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মামলাটি কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।