বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের পরিচালককে ঘিরে উত্তেজনা, বিক্ষোভের মুখে কার্যালয় ছাড়লেন ডা. মামুনুর রশীদ

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে বুধবার (৩ জুন) উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভ ও চাপের মুখে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মামুনুর রশীদকে শেষ পর্যন্ত নিজ কার্যালয় ত্যাগ করতে হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বিএনপিপন্থি চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, নার্স এবং ছাত্রদল নেতাকর্মীরা একত্র হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা পরিচালকের বিরুদ্ধে “রাজনৈতিক পক্ষপাত” ও “পূর্ববর্তী শাসনামলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা”র অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ দাবি করেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ডা. মামুনুর রশীদকে “আওয়ামী লীগপন্থি চিকিৎসক সংগঠন স্বাচিপের সঙ্গে যুক্ত” আখ্যা দিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়—কোন প্রক্রিয়ায় তিনি হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তারা আরও দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার নেতৃত্বে হাসপাতালের চিকিৎসক, টেকনোলজিস্ট ও নার্সরা কাজ করবেন না।

একপর্যায়ে উত্তেজনা বাড়লে ডা. মামুনুর রশীদ কার্যালয় ত্যাগ করেন। পরে তিনি গণমাধ্যমে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কিছু অংশ সত্য হতে পারে, তবে তিনি বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্টতার মধ্যে ছিলেন। তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কথা বলবেন এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত সেখান থেকেই আসবে।

ঘটনার পর বিক্ষোভকারীরা পরিচালকের কার্যালয়ের নামফলক খুলে ফেলেন এবং দাবি করেন, চূড়ান্ত সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কার্যালয়টি বন্ধ থাকবে। বর্তমানে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ রয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশ ও আনসার সদস্যদের উপস্থিতিতে পরিচালক নিরাপদে এলাকা ত্যাগ করেন।

এর আগেও গত ২০ মে যোগদানের সময় একই ধরনের প্রতিরোধের মুখে পড়েছিলেন ডা. মামুনুর রশীদ, যদিও পরে ২১ মে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই আবারও এ ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়লেন তিনি।

এ ঘটনায় হাসপাতাল প্রশাসনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।