বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

সৈয়দপুরে নির্বাচন এলেই কদর বাড়ে বিহারি ভোটারদের

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রচার প্রচারণা আর নানা প্রতিশ্রুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। নীলফামারীর ৪টি আসনের মধ্যে সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত নীলফামারী-৪ আসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এ আসনে প্রতিবারের মতো এবারও অবাঙালি (বিহারি) ভোটারদের নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।

প্রার্থীরা তাদের নিজের দিকে টানতে নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছেন। সভা সমাবেশে বাংলার পাশাপাশি বক্তব্য রাখছেন উর্দুতে। ওই ভাষাতেই করছেন কুশল বিনিময়। তবে এবারই প্রথম নয়, ভোট এলেই কদর বাড়ে তাদের।

জানা যায়, অবাঙালিদের মধ্যে একটি অংশ ১৯৪৭ সালে ভারত থেকে এসে সৈয়দপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। অন্যরা স্বাধীনতার পর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে এখানকার ক্যাম্পে আশ্রয় নেন। স্থায়ীভাবে বসবাসকারীরা প্রথম থেকে ভোটার থাকলেও ক্যাম্পে বসবাসকারীরা ভোটার হন ২০০৮ সালে। বর্তমানে সৈয়দপুর পৌরসভার মোট ভোটারের অর্ধেকই প্রায় ৬০ হাজার অবাঙালি ভোটার। এর ফলে উর্দুভাষী ভোটার জয় পরাজয়ের নির্ধারক হিসেবে কাজ করেন।

অবাঙালিরা বলছেন, দীর্ঘসময় ধরে তারা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছেন। খাদ্য চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সেবা থেকে অনেকাংশে বঞ্চিত হয়। তবে নির্বাচনের আগে কথা দিলেও কথা রাখেনা কেউ। এবার যে তাদের উন্নয়নে কাজ করবেন তাকে ভোট দিবেন।

হাতিখানা ক্যাম্পের মোলায়েম হক বলেন, ভোট এসেছে বলে এখন প্রতিদিন বিভিন্ন প্রার্থীর আনাগোনা লেগে থাকছে ক্যাম্পে। আমরা বিভিন্ন সময়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হলেও তাদের পাশে পাইনা।

আরেক বাসিন্দা মাবুল হোসেন বলেন, ভোট দিতে যাবো তবে ভোট দিবো এমন ব্যক্তিকে যিনি আমাদের ক্যাম্পের জন্য ভালো কিছু করবেন। আমরা দীর্ঘসময় ধরে অবহেলিত হয়ে আছি।

হানিফুল ইসলাম বলেন, আমরা প্রতি বছর ভোট দেই তবে যে আশা নিয়ে ভোট দেই সেটা পুরন হয়না। আমরা এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে আমাদের উন্নয়ন করার মতো তাকে ভোট দিব।

উর্দুভাষী ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মাজেদ ইকবাল বলেন, আমরা ক্যাম্পবাসীরা ভোটাধিকার পেয়েছি। ক্যাম্পে বসবাসকারী অনেক ছেলে মেয়ে শিক্ষিত। বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, আমরাও বাংলাদেশের নাগরিক। ভোট এলে অনেকে আশ্বাস দেন, ক্যাম্পবাসীর জীবনমান উন্নয়ন করবেন, বাড়ি করে দেবেন, রাস্তা দেবেন কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয় না। আমরা বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। দেশে উন্নতি হলেও আমাদের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়নি।