বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ইসি ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি নাগরিক সমাজের আহ্বান

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলকভাবে আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি আহ্বান জানিয়েছে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখা এবং সহিংসতা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ‘অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ (এএফইডি) এবং ‘ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি’ (ইপিডি)।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ডেমোক্রেসি ওয়াচের চেয়ারপারসন তালেয়া রেহমান, এএফইডি’র মেম্বার সেক্রেটারি হারুন অর রশিদ এবং খান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রোকসানা খন্দকারসহ অন্যান্যরা।

বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর এই প্রথম জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে ‘জুলাই সনদ’ গ্রহণসহ বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন ও গণভোট দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

তারা জানান, সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং প্রস্তুতি জোরেশোরেই চলছে। এএফইডির নাগরিক পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে কথা বলা নির্বাচন কমিশনের ৯৮ শতাংশের বেশি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাঁরা নির্বাচনের দিনের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত।

তবে বক্তারা সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচন-সংক্রান্ত সহিংসতার একটি ইতিহাস রয়েছে। যদিও চলমান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত সহিংসতার মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম, তবুও ভোলা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, চট্টগ্রাম, সিরাজগঞ্জ ও ময়মনসিংহ জেলায় নির্বাচন-সম্পর্কিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সমর্থকদের ওপর হামলা, সংঘর্ষ ও দাঙ্গার অন্তত ২৫টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নির্বাচন কমিশনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কর্মকর্তা সংবেদনশীল ও উচ্চঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের মতে, নির্বাচনের দিন ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি, গুজব ও ভুল তথ্য ছড়ানো এবং ভোট শেষে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতার ঝুঁকি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এ সময় সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ছয় দফা সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—নির্বাচনের দিন যেকোনো বাধা দ্রুত সমাধান করা, নারী ও সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরাপদ ও গোপন ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের শান্তিপূর্ণ আচরণে অঙ্গীকার, নিরাপত্তা বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা, ভুল তথ্য প্রতিরোধে গণমাধ্যম ও তথ্য যাচাইকারী সংস্থার সমন্বয় এবং নাগরিক পর্যবেক্ষকদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা।

সবশেষে বক্তারা ভোটারদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, যেন তাঁরা নির্ভয়ে নিজস্ব মত ও বিশ্বাস অনুযায়ী ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।