বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

‘সুপার এল নিনো’র আশঙ্কা: বিশ্বকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জাতিসংঘের

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহ ও চরম আবহাওয়ার মধ্যেই নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এল নিনো আবহাওয়া প্যাটার্নের নতুন ও শক্তিশালী একটি ধাপ শুরু হতে পারে, যা বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের বাকি সময়জুড়ে এল নিনোর প্রভাব আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ, খরা, অতিবৃষ্টি এবং অন্যান্য আবহাওয়াজনিত অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে।

জাতিসংঘের এই সতর্কতার আগে বিশ্বের বিভিন্ন আবহাওয়া গবেষণা প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের পূর্বাভাস দিয়েছিল। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, চলতি বছরের এল নিনো সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘটনাগুলোর একটি হতে পারে। এ কারণেই একে অনেকে ‘সুপার এল নিনো’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।

কী এই এল নিনো?

এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরকেন্দ্রিক একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া। সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হয়। বাতাসের প্রবাহ ও সমুদ্রস্রোতের পরিবর্তনের কারণে এই উষ্ণতা সৃষ্টি হয় এবং এর প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

El Nin~o⇒Pacific Ocean Surface Temperature↑⇒Global Temperature↑El\ Niño \Rightarrow \text{Pacific Ocean Surface Temperature} \uparrow \Rightarrow \text{Global Temperature} \uparrow

এল নিনোর ফলে কোথাও দীর্ঘস্থায়ী খরা, কোথাও অতিবৃষ্টি, আবার কোথাও তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর প্রভাব আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।

বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা

এল নিনো ঠিক কখন পূর্ণমাত্রায় শুরু হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে বিজ্ঞানীরা বর্তমানে মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা ও বায়ুপ্রবাহের পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

যুক্তরাজ্যের Met Office-এর বিজ্ঞানী প্রফেসর অ্যাডাম স্কাইফ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, বড় ধরনের এল নিনো আসছে। এটি রেকর্ড গড়তেও পারে।”

তাপপ্রবাহের সঙ্গে সম্পর্ক

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার বেশ কিছু অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনো শক্তিশালী হলে এসব অঞ্চলে গরমের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং এল নিনোর যৌথ প্রভাবে ২০২৬ সাল বিশ্বের উষ্ণতম বছরগুলোর একটি হয়ে উঠতে পারে। তাই কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা ও দুর্যোগ প্রস্তুতিতে আগাম পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য দেশগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

বিশ্ব যখন জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মোকাবিলার চেষ্টা করছে, তখন সম্ভাব্য ‘সুপার এল নিনো’র এই সতর্কবার্তা নতুন করে বৈশ্বিক উদ্বেগ তৈরি করেছে।