বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

সিলেট ভোলাগঞ্জে অবৈধ পাথর ক্রাশিং অভিযান: পাথর জব্দ, ক্রাশার মিল ধ্বংস, একজন আটক

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫

সিলেট-ভোলাগঞ্জের আলোচিত সাদা পাথর ফের ক্রাশিং করে পাচার করার অভিযোগে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের কলাবাড়ী এলাকায় উপজেলা প্রশাসন কোম্পানীগঞ্জ এর অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

২৯ শে অক্টোবর(শনিবার)রাত ১০ টা হতে গভীর রাত পর্যন্ত অভিযানে বিভিন্ন ক্রাশার মিল হতে অন্তত ২৫ গাড়ী মাধ্যমে অন্তত ১৩ হাজার ঘনফুট আস্তা/ ভাংগা পাথর প্রশাসনের আওতায় নেয়া হয়েছে বলে স্হানীয় বিভিন্ন মিল মালিক সূত্রে জানা গেছে। জব্দকৃত পাথরের মূল্য স্হানীয় সূত্রে ২০ লাখ ১৫ হাজার টাকা বলে জানা গেছে। অভিযানের সময় স্হানীয় একটি ক্রাশার মিল অফিস হতে এক যুবককে আটক করেও নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে উপজেলা প্রশাসন ৬ মাসের জেল হাজতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, গণঅভ্যূথ্থান পরবর্তী সময়ে ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর ও রোপওয়ে বাংকার এলাকায় গণহারে পাথর বালি লুটপাট করে নিয়ে যায় বেশ কয়েকটি স্হানীয় গ্রুপের সহযোগিতায় অন্য এলাকার শ্রমিক ভাড়া করে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় ব্যাপক হারে পর্যটন স্পট সাদা পাথর লুটপাটের চিত্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে জেলা প্রশাসনসহ খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয় নড়েচড়ে বসে।

অবশেষে কঠোরভাবে আইনী মোকাবিলায় সাদা পাথর হরিলুট দমনসহ লুটপাটে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয় বেশ কয়েকজনকে মামলা রুজু করে।এমনকি সাদা পাথর সুদূর ঢাকাসহ সিলেটের বিভিন্ন স্হানে অভিযানে সাদা পাথর উদ্ধার করে ধলাইর উৎসমূখে প্রতিস্থাপন করা হয়।

প্রায় চারমাস নীরব থাকার পর পাথরলুট চক্র ফের সক্রিয় হয়ে রোপওয়ে বাংকার এলাকার ও লুকায়িত সাদা পাথর সংগ্রহ করে ক্রাশিং করা হচ্ছে সম্প্রতি এমন অভিযোগ চাউর হচ্ছে একমাস ধরে। এমনই অভিযোগ স্হানীয় সূত্রে উপজেলা প্রশাসন কোম্পানীগঞ্জ নজরে এনে গতরাতে অভিযানে নামেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন মিয়া, ভূমি কর্মকর্তা পলাশ তালুকদার, অফিসার ইনচার্জ মোঃ রতন শেখ পিপিএম।একদল পুলিশের উপস্থিতিতে শনিবার দিবাগত রাতে ৪/৫ টি ক্রাশার মিল ধ্বংসসহ ১০ টি ক্রাশার মিলের আঙ্গিনা হতে ২৫ ট্রাক পাথর ভাংগামাল প্রশাসন কতৃক নেয়া হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা পলাশ তালুকদার অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রায় ১০ গাড়ীর মতো ভাংগা পাথর নেয়া হয়েছে বলে জানান। এক প্রশ্নের জবাবে ভূমি কর্মকর্তা জব্দ পাথরগুলো প্রশাসন হেফাজতে নয় বরং উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে আবেদনের প্রেক্ষিতে দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

তবে অভিযানের চিত্র প্রত্যক্ষদর্শী স্হানীয় এক দায়িত্বশীল ব্যক্তি জানান নূন্যতম ২০/২২ গাড়ী পাথর প্রশাসন মারফত নিয়ে সিলেট পুলিশ লাইন,স্হানীয় মসজিদ মাদ্রাসায় দেয়ার কথা থাকলেও রহস্যজনকভাবে অর্ধেক পাথর যার আনুমানিক মূল্য ১০ লাখ টাকার পাথর উধাও হওয়ার ধারণা বলে মন্তব্য করেন ঐ ব্যক্তি। এ নিয়ে গুঞ্জন চলছে এলাকায় গভীর রাতের জব্দ পাথর কোথায় যেনো হারিয়ে গেলো?