বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

সিলেটে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: দাঁড়িয়ে থাকা বাসে ধাক্কা, নিহত ২

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬

সিলেটে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: দাঁড়িয়ে থাকা বাসে ধাক্কা, চালক-হেলপার নিহত

সিলেটের ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী বাসের পেছনে দ্রুতগতির আরেকটি বাস ধাক্কা দিলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরেকজন প্রাণ হারান।

রোববার (৩১ মে) ভোরে উপজেলার তাজপুর বাজারের পূর্ব পাশে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

নিহতরা হলেন ‘যাতায়াত’ পরিবহনের বাসচালক সোহেল (৩০) এবং হেলপার ইমন (২০)। সোহেল নরসিংদী সদর উপজেলার শাহী প্রতাপ গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে। নিহত ইমনের পরিচয় বিস্তারিতভাবে তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘যাতায়াত’ পরিবহনের একটি বাস সিলেটমুখী হয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। ভোরের দিকে একই পথে সিলেটের দিকে যাচ্ছিল ‘সেন্টমার্টিন সৌহার্দ্য’ পরিবহনের একটি দ্রুতগতির বাস। একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি দাঁড়িয়ে থাকা বাসটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়।

সংঘর্ষের তীব্রতায় দুটি বাসই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় বাসচালক সোহেল গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এছাড়া হেলপার ইমন গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা ও উদ্ধারকর্মীরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ, স্থানীয় থানা-পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। আহতদের উদ্ধারের পাশাপাশি দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ শুরু করা হয়।

শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে যানবাহন সরিয়ে মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করা হয়।

তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কে অতিরিক্ত গতি এবং অসতর্কভাবে গাড়ি চালানোর কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা সড়কে নিরাপত্তা জোরদার এবং চালকদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। সড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।