বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

সিরিক দ্বীপে মার্কিন হামলার জবাবে পাল্টা আঘাতের দাবি আইআরজিসির, কুয়েতে ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের ঘোষণা

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ১ জুন, ২০২৬

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশের সিরিক দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর হামলার এক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সোমবার প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে এ তথ্য জানায় ইরানের অভিজাত সামরিক বাহিনীটি।

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, সিরিক দ্বীপের একটি যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন বাহিনীর হামলার পর দ্রুত পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। যে মার্কিন ঘাঁটি থেকে হামলা পরিচালিত হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে, সেটিকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে কোন ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ১৯টি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যার মধ্যে ৮টি প্রধান ও স্থায়ী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ফলে হামলার প্রকৃত লক্ষ্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

এদিকে কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার ভোরে দেশটির আকাশসীমার দিকে ধেয়ে আসা কয়েকটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বিমান বাহিনীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরাকভিত্তিক কোনো শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী এই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত ৪০ দিন পর যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সাময়িকভাবে থেমে গেলেও সম্প্রতি আবারও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার অভিযোগ ওঠে। এর জবাবে ইরানের বন্দর আব্বাস এলাকায় একটি ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটে।

সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র সিরিক দ্বীপ ছাড়াও গোরুক ও কেশম দ্বীপের রাডার ও ড্রোন স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালিয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা চলমান রয়েছে।