বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

সিরাজগঞ্জে দুই পুলিশ সদস্যের নেতৃত্বে নারীদের ওপর হামলার অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার কোনাবাড়ির মফিজ মোড় এলাকায় দীর্ঘদিনের সরকারি জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দুই পুলিশ সদস্যের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় নারীসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে উপজেলার কোনাবাড়ি দক্ষিণপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর ধরে সরকারি জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল ছেবারত আলী শেখের পরিবার ও একই এলাকার আলম মণ্ডলের পরিবারের মধ্যে। ঈদের ছুটিতে বাসায় আসেন কোনাবাড়ি গ্রামের ছেবারত আলী শেখের ছেলে পুলিশ সদস্য মো. মাহাবুবুল হাসান (বগুড়া সদর থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত) ও হাবিবুল্লাহ ওরফে শাহারুল (পাবনার আমিনপুর থানায় কনস্টেবল কর্মরত)। পরে গত বুধবার (২৫ মার্চ) তাদের দুজনের নেতৃত্বে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আলম মণ্ডলের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাড়ির সামনে উঠান ঝাড়ু দেওয়া অবস্থায় তার স্ত্রী মোছা. রহিমা বেগমকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আলম মণ্ডল ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি খেতে বসেছিলাম। আমার স্ত্রীর চিৎকার শুনে দৌড়ে বাইরে এসে দেখি, আমার বউ মাটিতে পড়ে আছে। আর মাথা ফেটে গেছে। আমারই বাড়ির সামনে সরকারি জমি তারা জোরদখল করতে চেয়েছিল। এই নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি।

আলম মণ্ডলের বাড়িতে হামলার পরে তার ফুপাতো ভাই সূর্য মণ্ডলের বাড়িতে গিয়ে আরও হামলা চালানো হয়। সেখানে সূর্য মণ্ডল, তার স্ত্রী স্বপ্না বেগম ও ছোট ভাই মো. হামিদুল আহত হন। হামলার সময় বাধা দিতে গেলে বাড়ির নারীদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই বাড়িতে হামলার সময় ব্যবহার করা দেশীয় অস্ত্রও ফেলে রেখেছেন হামলাকারীরা।

আহত সূর্য মণ্ডলের ভাই মো. হামিদুল ঢাকা পোস্টকে বলেন, ২০ থেকে ২৫ জন দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা, রাম দা নিয়ে এসে আমাদের ওপরে অতর্কিত হামলা চালায়। আমার ভাই (সূর্য মণ্ডল) কে মাটিতে ফেলে তারা মারতে শুরু করে। আমি বাধা দেওয়ায় আমাকেও মেরেছে।

অন্যদিকে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের চাচা মো. সোহেল রানা ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত ২৪ তারিখে আমাকে শুনিয়ে শুনিয়ে সূর্য মণ্ডলের ছেলে সুমন অনেক কটু কথা বলছিল। আমি শুধু তাকে অনুরোধ করেছি যে, তুমি এভাবে কথা বলো না। বিকেলে এই ঘটনা ঘটার ৪ মিনিট পরেই সুমন ১৫ জন নিয়ে আমার পরিবারের ওপরে হামলা চালায়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য মো. সাহারুল অভিযোগ অস্বীকার করে ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।

কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী ঢাকা পোস্টকে বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তাদেরকে মামলা করতে বলেছি। প্রাথমিক তদন্তে মারামারির বিষয়টি আমরা দেখেছি৷