রবিবার , ২৬শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১২ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

সার্ককে আরও গতিশীল করতে চায় বাংলাদেশ-মালদ্বীপ

প্রকাশিত হয়েছে- রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক)কে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুইজ্জু ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দিতে মালেতে পৌঁছানোর পর দেশটির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তারা সার্ককে আরও কার্যকর করার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন।

রোববার (২৬ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার বিকেলে মালে পৌঁছালে বিমানবন্দরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম। পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে গিয়ে প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুইজ্জুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাতে খলিলুর রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এ সময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করায় প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

খলিলুর রহমান বলেন, পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে সব দেশের সঙ্গে শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখা বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্ক নিয়ে উভয় পক্ষই সন্তোষ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের কল্যাণে বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। এ সময় সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়।

মালদ্বীপে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী ও পেশাজীবীর কর্মসংস্থানের বিষয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন খলিলুর রহমান। এ সময় প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু মালদ্বীপের অর্থনীতিতে বাংলাদেশিদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করেন।

সাক্ষাতে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলী ইহুসান এবং মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাজমুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্মানে প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুইজ্জু একটি উচ্চপর্যায়ের চা-চক্রের আয়োজন করেন। এতে মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসেইন মোহামেদ লতিফ, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সন্ধ্যায় খলিলুর রহমান মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম আয়োজিত কূটনৈতিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে তিনি মালদ্বীপে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং দেশটির জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে সার্ককে কার্যকর ও গতিশীল করার বিষয়ে দুই দেশের এই অভিন্ন অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।