বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

সারা দেশে সক্রিয় হচ্ছে মৌসুমি বায়ু, আগামী পাঁচ দিন ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা

প্রকাশিত হয়েছে- বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

দেশজুড়ে ধীরে ধীরে প্রভাব বিস্তার করছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। ইতোমধ্যে দেশের পাঁচটি বিভাগে মৌসুমি বায়ুর বিস্তার ঘটেছে এবং আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে বাকি এলাকাগুলোতেও এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর ফলে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়া, বজ্রপাত এবং মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত পূর্বাভাসে বলা হয়, মৌসুমি বায়ু বর্তমানে বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগে সক্রিয় রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও বর্ষার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন এলাকাতেও অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে, যা স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে রোববার পর্যন্ত প্রায় একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করবে। দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি থাকবে। মাঝে মধ্যে বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে।

তাপমাত্রার ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস নেই। দক্ষিণাঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে দেশের অধিকাংশ এলাকায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। কিছু এলাকায় রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এদিকে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌসুমি বায়ুর বিস্তার আরও জোরদার হলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে নদী অববাহিকা ও নিম্নাঞ্চলগুলোতে অতিবৃষ্টি হলে সাময়িক জলাবদ্ধতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কৃষি খাতের জন্য এ বৃষ্টিপাত উপকারী হলেও বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ার কারণে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, আগামী পাঁচ দিন পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে, যা চলতি মৌসুমে বর্ষার পূর্ণাঙ্গ সক্রিয়তার ইঙ্গিত বহন করছে।