বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদারে উভয় দেশ একমত হয়েছে। দুই দেশের সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র ৯ম ল্যান্ড ফোর্সেস টকস ২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) আইএসপিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকা সেনানিবাসে সেনা ক্রীড়া নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের কনফারেন্স রুমে দুই দিনব্যাপী (২৬-২৭ জানুয়ারি) এই বৈঠকের সফল সমাপ্তি ঘটে।
আইএসপিআর জানায়, গত ৮-১০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ৯ম ল্যান্ড ফোর্সেস টকসের ধারাবাহিকতায় এই বৈঠক আয়োজন করা হয়। এতে উভয় দেশের সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন এবং পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন ও কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ২২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আলোচনায় অংশ নেয়, যার নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামরিক প্রশিক্ষণ পরিদপ্তরের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ বদরুল হক। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে চার সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক আর্মি কমান্ডের নিরাপত্তা সহযোগিতা বিভাগের মেজর মাইকেল জেকব ওসটার। বৈঠকের উদ্বোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সামরিক প্রশিক্ষণ পরিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হুমায়ূন কবীর।
আলোচনা পর্বে উভয় পক্ষ সামরিক প্রশিক্ষণ বিনিময়, উন্নত প্রযুক্তি ও আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহারে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যৌথ প্রশিক্ষণ ও মহড়া আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উদ্ভাবনী প্রশিক্ষণ পদ্ধতি গ্রহণ এবং একাধিক যৌথ মহড়ার আয়োজন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার, প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলায় সম্মিলিত প্রস্তুতি এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রস্তুতির বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত পোষণ করে। প্রতিনিধিরা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর মধ্যে চলমান কৌশলগত সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন।
আইএসপিআর জানায়, এ ধরনের আলোচনা ও সহযোগিতা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।