বুধবার , ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৬ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

সাভারে ৮ কিলোমিটারজুড়ে যানজট, ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তিতে ঘরমুখো মানুষ

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬

সাভারের ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক ও নবীনগর–চন্দ্রা সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় ৮ কিলোমিটারজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়ায় মহাসড়কে যানবাহনের ধীরগতি ও দীর্ঘ জটলার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।

মঙ্গলবার (২৬ মে) রাতে সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের প্রান্তিক গেট থেকে নবীনগর–চন্দ্রা সড়কের বাইপাইল পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার সড়কে যানজট ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া জিনারী ও বাড়ইপাড়া এলাকায় যানবাহনের গতি ছিল অত্যন্ত ধীর। ফলে পুরো রুটজুড়ে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকতে হয় সাধারণ যাত্রীদের।

ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের ভিড়ের পাশাপাশি গার্মেন্টস শ্রমিকদের অতিরিক্ত উপস্থিতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। বিভিন্ন পয়েন্টে যাত্রী ওঠানামা, অনিয়ন্ত্রিত গাড়ি থামানো এবং সড়কে মানুষের ভিড়—সব মিলিয়ে যানজট আরও দীর্ঘায়িত হয়।

শ্যামলী বাসের যাত্রী শফিউল আলম বলেন, গাবতলী থেকে রওনা দেওয়ার পর কয়েকটি স্থানে যানবাহনের ধীরগতি ছিল। তবে সাভার এলাকায় এসে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। সিএনজি ও নবীনগর হয়ে আসতে প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে।

অন্যদিকে এমএনপি বাসের চালক আমিনুল হক জানান, ঈদ উপলক্ষে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ দুটোই বেড়েছে। গাবতলী থেকে বাইপাইল পর্যন্ত আসতে সাধারণ সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ সময় লেগেছে, যা পুরো রুটে যানজটের প্রভাব স্পষ্ট করে।

এদিকে সাভার হাইওয়ে থানার ইনচার্জ শেখ শাহজাহান বলেন, সড়কে যানজটের মূল কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে যাত্রী ওঠানামা এবং পোশাক শ্রমিকদের ভিড়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ কাজ করছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে এই সময় সাভার ও আশুলিয়া অঞ্চলে প্রতিদিনই অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে গার্মেন্টস ছুটির সময়ে একযোগে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে পড়ায় সড়ক ব্যবস্থায় চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়।

সব মিলিয়ে ঈদের আগ মুহূর্তে ঢাকা–আরিচা ও নবীনগর–চন্দ্রা রুটে যানজটের কারণে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বাড়ছে।