বৃহস্পতিবার , ২৩শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৮ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ৯ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

সাবেক এমপি হাবিবসহ ২৬ আসামির বিচার শুরুর আবেদন, শুনানি শেষ প্রসিকিউশনের

প্রকাশিত হয়েছে- মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬

 

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর উত্তরায় মীর মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসানসহ ২৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আবেদন জানিয়েছে প্রসিকিউশন। এ বিষয়ে প্রসিকিউশনের শুনানি শেষ হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা দুটি অভিযোগ পড়ে শোনান এবং মীর মুগ্ধসহ অন্যদের হত্যার ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। একইসঙ্গে প্রত্যেক আসামির কথিত দায় তুলে ধরে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আবেদন জানান তিনি।

এরপর স্টেট ডিফেন্সের আইনজীবী আমির হোসেন তার মক্কেলদের অব্যাহতি বা ডিসচার্জের আবেদন করেন। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কয়েকজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। স্টেট ডিফেন্সের আরেক আইনজীবী এম হাসান ইমামও তার মক্কেলদের অব্যাহতি চেয়েছেন।

তবে আসামিপক্ষের অন্য আইনজীবীদের শুনানির জন্য আগামী ২৩ জুলাই দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

মামলার ২৬ আসামির মধ্যে বর্তমানে আটজন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন— ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ওসি মো. মজিবুর রহমান, আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল মো. হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, যুবলীগ সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা মো. সোহেল রানা, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মো. শাহ আলম এবং তুরাগ থানা এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী মো. ইরফানুল হক গাজী।

মামলার পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীমসহ পুলিশের সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও সিটি করপোরেশনের সাবেক কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও নেতা।

প্রসিকিউশনের প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আশপাশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এমবিএ শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ সাতজন নিহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই ঘটনায় উবারচালক মোখলেছুর রহমান ওরফে দুর্জয়কে পুলিশের এপিসির চাকায় পিষ্ট করে হত্যার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া মেহেদী হাসানসহ পাঁচজনকে হত্যাচেষ্টার উদ্দেশ্যে গুলি করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯ জুলাই একই এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর পুনরায় নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে রিদোয়ান শরীফ রিয়াদ জয়েসহ চারজন নিহত হন এবং রাইসুল রহমান রাতুল গুলিতে গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের দাবি, দুটি অভিযোগে বর্ণিত ঘটনাগুলো পরিকল্পিত, ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতাভুক্ত। এখন আসামিপক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।