বৃহস্পতিবার , ২রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ - বর্ষাকাল || ১৭ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

সাড়ে চার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও ২৩ কোটির সন্দেহজনক লেনদেন: সাবেক এমপি শরীফের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন

প্রকাশিত হয়েছে- সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬

প্রায় ৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ২৩ কোটি টাকার বেশি সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে ময়মনসিংহ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে চার্জশিট অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংস্থাটির মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন। এর আগে ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি শরীফ আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪–১৫ করবর্ষের আগে শরীফ আহমেদের সঞ্চয় ছিল মাত্র ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। কিন্তু ২০১৪–১৫ থেকে ২০২৪–২৫ করবর্ষ পর্যন্ত তিনি মোট আয় দেখিয়েছেন ৬ কোটি ৯৩ লাখ ১৩ হাজার ১৮ টাকা। পূর্বের সঞ্চয় যোগ করলে তার প্রদর্শিত মোট আয় দাঁড়ায় ৬ কোটি ৯৯ লাখ ৩ হাজার ১৮ টাকা

এর মধ্যে তিনি মৎস্য খাত থেকে আয় দেখিয়েছেন ৪ কোটি ৪৩ লাখ ৮৩ হাজার ৪৫৩ টাকা। তবে এই আয়ের পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র বা প্রমাণ পায়নি দুদক। আয়কর নথিতেও এর উৎসের সত্যতা মেলেনি। এমনকি সরেজমিন তদন্তে মৎস্য চাষের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ফলে মৎস্য খাতের আয় বাদ দিলে তার বৈধ আয় দাঁড়ায় ২ কোটি ৫৫ লাখ ১৯ হাজার ৫৬৫ টাকা

একই সময়ে তার পারিবারিক ব্যয় ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৯ হাজার ৮৮১ টাকা। ব্যয় বাদ দিলে গ্রহণযোগ্য নিট আয় থাকে মাত্র ১ কোটি ৩১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৮৪ টাকা। অথচ অনুসন্ধানে শরীফ আহমেদের নামে ৪ কোটি ৫৫ লাখ ১৮ হাজার ৫৮১ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

এছাড়া তার নামে থাকা ১২টি ব্যাংক হিসাবে মোট ২৩ কোটি ৮ লাখ ২৩ হাজার ৪০৯ টাকা জমা এবং ১৯ কোটি ৬০ লাখ ৫৮ হাজার ৪০৭ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। দুদক এসব লেনদেনকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করে অবৈধ অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের অভিযোগ এনেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সম্পদ বিবরণীতে শরীফ আহমেদ মাত্র ৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা সম্পদের তথ্য দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায় বলে তদন্তে উঠে আসে।

অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।